নারীদের হার্ট অ্যাটাক: ভয় নয় সতর্ক হোন
Home >Blogs >নারীদের হার্ট অ্যাটাক: ভয় নয় সতর্ক হোন

নারীদের হার্ট অ্যাটাক: ভয় নয় সতর্ক হোন

Summary

আজকের দিনে হার্ট অ্যাটাক খুবই কমন। তবে হার্ট অ্যাটাক বললেই প্রথমে পুরুষদের কথা মাথায়আসে। কিন্তু, নারীদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা দেখা দেয়, কিন্তু ধরা পড়ে অনেক দেরিতে।

নারীদের হার্ট অ্যাটাক কেন দেরিতে ধরা পড়ে?

হার্ট অ্যাটাক মানেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে বুক চেপে ধরা ব্যথা, ঘাম, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। কিন্তুবাস্তবে চিত্রটা সব সময় এমন হয় না, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। আমাদের সমাজে এখনও একটা ভুলধারণা আছে যে হার্ট অ্যাটাক পুরুষদের রোগ। এই ধারণার কারণেই অনেক সময় নারীদের হার্ট অ্যাটাকদেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, আর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

এই লেখায় আমরা জানব, নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কীভাবে আলাদা, কেন তা প্রায়ইভুলভাবে নির্ণয় হয়, কোন কোন ঝুঁকি বিষয়টি বাড়িয়ে দেয় এবং কখন জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কীভাবে ভিন্ন?

সাধারণভাবে আমরা যে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ জানি, যেমন তীব্র বুক ব্যথা বা বাম হাতে ব্যথা ছড়িয়েপড়া, এসব পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক সময় সূক্ষ্ম এবংঅস্পষ্ট হয়।

নারীদের হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে:

  • বুকের মাঝখানে চাপ বা অস্বস্তি, যা সব সময় তীব্র নাও হতে পারে
  • ঘাড়, চোয়াল, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি, কয়েকদিন ধরে
  • বমি বমি ভাব বা হালকা বমি
  • শ্বাসকষ্ট
  • হালকা মাথা ঘোরা

অনেক সময় এই উপসর্গগুলো গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি, মানসিক চাপ বা হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গেগুলিয়ে ফেলা হয়। ফলে আসল সমস্যাটি আড়ালেই থেকে যায়।

কেন নারীদের হার্ট অ্যাটাক প্রায়ই ভুলভাবে নির্ণয় হয়?

নারীদের হার্ট অ্যাটাক দেরিতে ধরা পড়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে।

প্রথমত, সামাজিক ধারণা। পরিবার কিংবা রোগী নিজেও ভাবেন না যে এটা হার্টের সমস্যা হতে পারে।ফলে প্রথম দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

দ্বিতীয়ত, লক্ষণের ভিন্নতা। যেহেতু উপসর্গগুলো অনেক সময় পরিচিত নয়, তাই প্রাথমিক পর্যায়েডাক্তাররাও অন্য রোগের সম্ভাবনা ভাবতে পারেন।

তৃতীয়ত, গবেষণার সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে হার্ট সংক্রান্ত গবেষণার অধিকাংশই পুরুষদের উপর ভিত্তিকরে হয়েছে। ফলে নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ বা ঝুঁকির ধরণ সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলক কম ছিল।

চতুর্থত, নারীরা নিজের স্বাস্থ্যকে প্রায়ই অবহেলা করেন। পরিবার, কাজ, সন্তান, সবকিছুর দায়িত্ব নিতেগিয়ে নিজের শরীরের সংকেত উপেক্ষা করেন।

সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত সতর্ক সংকেত

অনেক সময় বড় বিপদের আগে শরীর ছোট ছোট সংকেত দেয়। কিন্তু আমরা সেগুলো গুরুত্ব দিই না।

নিচের লক্ষণগুলোকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি, যা বিশ্রামে কমছে না
  • ঘুমের সমস্যা
  • হালকা শ্বাসকষ্ট
  • বুকের হালকা চাপ বা জ্বালা
  • হজমের সমস্যা, যা নতুন করে শুরু হয়েছে

এসব উপসর্গ থাকলে এবং তা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, হার্টঅ্যাটাক কেন হয়, তার পেছনে ধীরে ধীরে ধমনীতে চর্বি জমা হওয়া, রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি হওয়া ইত্যাদিকারণ কাজ করে। তাই লক্ষণগুলোও অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।

নারীদের মধ্যে হার্ট ডিজিজের ঝুঁকির কারণ

নারীদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ঝুঁকি ফ্যাক্টর রয়েছে, যা হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

১. হরমোনের পরিবর্তন

মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

২.উচ্চ রক্তচাপডায়াবেটিস

এই দুটি রোগ নারীদের শরীরে হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বাড়ায়।

৩. স্থূলতা ও অনিয়মিত জীবনযাপন

ব্যায়ামের অভাব, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান, এসব কারণেও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

৪. মানসিক চাপ

দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রেস হৃদযন্ত্রের উপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলে।

৫. প্রেগন্যান্সি চলাকালীন জটিলতা

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া থাকলে ভবিষ্যতে হার্টের সমস্যাহওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা করানো উচিত?

অনেকেই ভাবেন, ব্যথা যতক্ষণ সহ্য করা যায়, ততক্ষণ অপেক্ষা করা যায়। কিন্তু হার্টের ক্ষেত্রে সময়ইসবচেয়ে বড় বিষয়।

নিচের পরিস্থিতিতে দেরী না করে দ্রুত হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে যাওয়া উচিত, যেমন:

  • ৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে বুকের অস্বস্তি বা চাপ
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • ঘাড় বা পিঠে তীব্র ব্যথা
  • ঘাম ও মাথা ঘোরা একসঙ্গে হওয়া

মনে রাখতে হবে, দ্রুত চিকিৎসা পেলে হৃদপেশির ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। তাই সন্দেহ হলেতাড়াতাড়ি পরীক্ষা করানোই ভালো।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়

প্রতিরোধই সব থেকে বড় সুরক্ষা। কিছু সহজ অভ্যাস বদলালে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • ব্লাড প্রেসার, সুগার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা
  • ধূমপান ছেড়ে দেওয়া
  • মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম
  • সুষম খাদ্যাভ্যাস (সঠিক পরিমাণে শাকসবজি ও প্রোটিন)

এই ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় সুরক্ষা তৈরি করতে পারে। নারীদের উচিত নিজের শরীরের প্রতি সচেতনহওয়া এবং লক্ষণকে অবহেলা না করা। শরীর কোনও সংকেত দিলে অবহেলা করবেন না। যত দ্রুতচিকিৎসা করবেন, সুস্থতা তত ভালো ভাবে পাবেন। মনে রাখবেন, আপনি ভালো থাকলে তবেই আপনারপরিবারও ভালো থাকবে।

Frequently Asked Questions

Written and Verified by:

Dr. Ashok B Malpani

Dr. Ashok B Malpani

Senior Consultant Exp: 42 Yr

Cardiology

Book an Appointment

Dr. Ashok B. Malpani is a Senior Consultant in Cardiology Dept. at BM Birla Heart Hospital, Kolkata, with over 34 years of experience. He specializes in complex angioplasty, primary angioplasty, and pacemaker implantation.

Related Diseases & Treatments

Treatments in Kolkata

Cardiology Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now