
শীতকালে রক্তনালী সংকুচিত হওয়া এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের কারণে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে, তাই ছোটখাটো লক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সেটিকে কেবল শীতের সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল করবেন না:
শীতকালে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে রক্তনালীগুলো সংকুচিত করে। এর ফলে রক্ত চলাচলের পথে চাপবেড়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ রক্তচাপ বাড়তে শুরু করে। এছাড়া শীতে মানুষ তুলনামূলক কমজল খায়, ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি, শরীরচর্চা কমে যায়, ভারী ও নোনতা খাবার খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়, সব মিলিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে শীতকালে রোদে কম বেরোনোর কারণে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও দেখা যায়, যা রক্তচাপেরওপর প্রভাব ফেলে। শীতের সময় খাওয়াদাওয়া, উৎসব, উল্লাস, সবই করুন, কিন্তু একটু বেশি নজররাখুন নিজের ব্লাড প্রেসারের দিকে।
অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ খুব স্পষ্ট হয় না। কিন্তু শীতকালে কিছু উপসর্গ বাড়লে সতর্ক হওয়াজরুরি। যেমন,
এই লক্ষণগুলোকে শীতের সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করলে বিপদ বাড়তে পারে। কারণ নিয়ন্ত্রণহীনউচ্চ রক্তচাপ থেকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই, সব সময় সতর্ক থাকুন। এই ধরণেরউপসর্গ দেখা দিলে দেরী না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, এবং জরুরি পরীক্ষা করান।
শীতকালে সাধারণ কিছু কিছু অভ্যাস বদলালেই উচ্চ রক্তচাপ কমানোর বা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়অনেকটাই কার্যকর হয়।
প্রথমত, খুব ভোরে বা কনকনে ঠান্ডায় হঠাৎ বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন। শরীর ভালোভাবে গরম নাকরে হাঁটা বা ব্যায়াম শুরু করবেন না। হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে শুরু করা ভালো।
দ্বিতীয়ত, গরম জামাকাপড় পরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। ঠান্ডায় শরীর বেশি সঙ্কুচিত হলে রক্তচাপ দ্রুতবাড়তে পারে।
তৃতীয়ত, অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো, এবং মানসিক চাপ কম রাখা অত্যন্ত জরুরি। শীতকালে দিনেরআলো কম থাকায় অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন, যা রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে।
“উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় কী”, এই প্রশ্নে চিকিৎসকরা প্রথমেই খাবারের কথাই বলেন। শীতেনোনতা খাবার, প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স, পাঁপড়, আচার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু অতিরিক্ত লবণরক্তচাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। তাই, অতিরিক্ত লবণ যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
শীতে খাদ্যতালিকায় রাখুন:
লবণ কমানোর পাশাপাশি চিনি ও অতিরিক্ত তেলও এড়িয়ে চলা উচিত। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যাউচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা মানে রক্তচাপ বাড়ার সম্ভাবনা অনেকটাকমে যাওয়া।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ব্যায়াম শীতকালেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভারী বা হঠাৎ জোরালো ব্যায়াম নাকরে নিয়মিত ও হালকা ব্যায়ামই সবচেয়ে উপকারী।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করলে রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে কোনো নতুনব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আগে নিজের শরীরের ফিটনেসচেক করে নিন, নাহলে হঠাৎ করে অনেক বেশি ওয়ার্কআউট করলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
শীতকালে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার বাড়িতে ব্লাড প্রেসার মাপা ভালো। যদি দেখা যায় রিডিং বারবারস্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসছে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
বিশেষ করে যাঁদের
তাঁদের ক্ষেত্রে শীতকালে রক্তচাপের দিকে অতিরিক্ত নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকরলে তবেই সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন। তাই নিয়মিত ব্লাড প্রেসার চেক করুন, লিপিড প্রোফাইলপরীক্ষা করুন, এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
উচ্চ রক্তচাপ এমন একটি সমস্যা, যা সারা বছরই নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার, কিন্তু শীতকালে এই নিয়ন্ত্রণআরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সময়মতো রক্তচাপ পরীক্ষা, এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললেইশীতকাল নিরাপদ ও সুস্থভাবে কাটানো সম্ভব।
শীতে উৎসব, অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ি, সব উপভোগ করুন, কিন্তু নিজের রক্তচাপের দায়িত্ব নিজের হাতেইরাখুন। সময় মতো ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া করুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
নোনতা খাবার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, আচার, পাঁপড়, ভাজাভুজি এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাদ্যসামগ্রীশীতে রক্তচাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই ধরনের খাবারগুলি যতদূর সম্ভব খাদ্যতালিকায় কমরাখা ভাল।
সবক্ষেত্রে পাল্টাতে হয় না। আপনার শারীরিক অসুবিধা অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবংতাঁর কথামতো ওষুধ খান।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না রাখলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেসঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
Written and Verified by:

Dr. Sabyasachi Pal is a Senior Consultant in Cardiology Dept. at BM Birla Heart Hospital, Kolkata, with over 11 years of experience. He specializes in coronary interventions and heart failure management.
Similar Cardiology Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 BMB Kolkata. All Rights Reserved.