নারীরা কেন ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’- এ বেশি ভোগেন?
Home >Blogs >নারীরা কেন ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’- এ বেশি ভোগেন?

নারীরা কেন ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’- এ বেশি ভোগেন?

Cardiology | by Dr. Dhiman Kahali on 22/01/2026

Table of Contents

Summary

হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকে তীব্র ব্যথা—এই ধারণাটি সবসময় সঠিক নয়, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। শরীরের গঠন, হরমোনের প্রভাব এবং ব্যথার ভিন্নতর বহিঃপ্রকাশের কারণে নারীরা প্রায়ই 'সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক'-এর শিকার হন। অনেক সময় সরু ধমনী বা হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে লক্ষণগুলো অস্পষ্ট থাকে, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

পুরুষ ও নারীর উপসর্গের ভিন্নতা

পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সাধারণত বুকে প্রচণ্ড চাপ বা বাম হাতে ব্যথার মতো সরাসরি লক্ষণ দেখা যায়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং বিভ্রান্তিকর হতে পারে:

  • বুকে ব্যথার অভাব: পুরুষদের মতো নারীদের সবসময় বুকে তীব্র ব্যথা হয় না।
  • অস্বস্তি: ব্যথার বদলে পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের উপরের অংশে চাপ অনুভব করা।
  • ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট: কোনো কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড ক্লান্তি বা সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা।
  • অন্যান্য লক্ষণ: বমি বমি ভাব, হজমের সমস্যা (যাকে অনেকে গ্যাস্ট্রিক মনে করেন) এবং মাথা ঘোরা।

 কেন নারীরা সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকে বেশি আক্রান্ত হন?

পুরুষ ও নারীর শরীরের গঠন, হরমোন, ব্যথা অনুভবের প্যাটার্ন এবং জীবনযাপনের ধরন অনেকাংশে আলাদা। এজন্য হার্ট অ্যাটাক কেন হয়, এই প্রশ্নের উত্তর নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে একই হলেও, সমস্যা প্রকাশের ধরন ভিন্ন। নারীদের ধমনী সাধারণত সরু হয়, তাই ব্লকেজ অনেক সময় পুরোপুরি ধরা পড়ে না। আবার নারীরা অনেক সময় নিজের ব্যথা বা অস্বস্তিকে স্বাভাবিক ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক বা স্ট্রেস বলে ধরে নেন।

এছাড়া মাসিক চক্র, মেনোপজ, হরমোনাল পরিবর্তন, এসব বিষয় হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। তাই সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক নারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ করা যায়।

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কীভাবে আলাদা?

অনেকেই মনে করেন হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক এর লক্ষণ অনেক সময় তেমন ক্লাসিক্যালভাবে প্রকাশ পায় না। অনেকেরই বুক ব্যথা হয় না, এটাই সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের বড় কারণ।

নারীদের মধ্যে দেখা যায় এমন কিছু সাধারণ উপসর্গ হল:

  • হালকা শ্বাসকষ্ট
  • পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে চাপ অনুভব
  • হঠাৎ ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব
  • হজমে সমস্যা বা বুকজ্বালা
  • মাথা ঘোরা
  • হাত-পা ঝিমঝিম

এই উপসর্গগুলো সাধারণ সমস্যা বলে মনে হতে পারে। তাই অনেক নারী এগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যান। ফলে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী, সেটা বোঝার আগেই বিপদ বাড়তে থাকে।

কোন কোন কারণ নারীদের সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়?

নারীদের সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হল,

হরমোনাল পরিবর্তন

মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে গেলে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা কমে যায়। রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং ব্লকেজ দ্রুত বাড়ে।

স্ট্রেস ও মানসিক চাপ

নারীরা প্রায়ই পরিবারের দায়িত্ব, কর্মজীবন এবং সামাজিক চাপ একসাথে সামলাতে হয়। দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস হৃদযন্ত্রকে দুর্বল করে।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বাড়ায়। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ায়।

হাই BP ও কোলেস্টেরল

উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাকের কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। নারীদের ক্ষেত্রে এগুলো অনেক সময় অজান্তেই বাড়তে থাকে।

আনহেলথি খাদ্যাভ্যাস

অতিরিক্ত ভাজা খাবার, বেশি লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি খেলে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়। 

তাই অনেকেই জানতে চান, কী খেলে হার্ট অ্যাটাক হয়?

অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, লাল মাংস, বেশি তেলযুক্ত খাবার, এসবই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

কেন নারীদের সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক বেশি সময় ধরা পড়ে না?

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক অনেক সময় কোনো ব্যথা সৃষ্টি করে না। আবার নারীরা নিজেদের অস্বস্তিকেও “গ্যাস”, “স্ট্রেস”, “কাজের চাপ” বলে এড়িয়ে যান।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ,

লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যার মতো মনে হয়

যেমন, বমিভাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, এসব উপসর্গ অনেক রোগেই দেখা যায়। তাই সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক ধরা কঠিন হয়ে যায়।

সামাজিক চাপ

অনেক নারী পরিবারের যত্ন নিতে গিয়ে নিজের শরীরের কথা ভুলে যান। এমনকি জরুরি সমস্যাও লুকিয়ে রাখেন।

চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়া

যে কোনো অস্বস্তি হলে দ্রুত কার্ডিওলজিস্টের কাছে যাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে নারীরা অনেক সময় চিকিৎসার জন্য দেরি করেন।

হার্ট ডিজিজ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব

অনেকে মনে করেন হৃদরোগ শুধু পুরুষদের হয়। এই ভুল ধারণার কারণে নারীদের সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক অজান্তেই থেকে যায়।

নারীরা কীভাবে আগেভাগে সতর্ক হতে পারেন?

হার্টের সুস্থতা রক্ষা করতে হলে নিয়মিত কিছু অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। নারীরা যদি আগেই সাবধান হন, তাহলে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিন

যদি বুকজ্বালা, অস্বস্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ক্লান্তি নিয়মিত হয়, তাহলে অবহেলা করবেন না।

নিয়মিত হেলথ চেকআপ

ইসিজি, ইকো, লিপিড প্রোফাইল, এই পরীক্ষা গুলো সময়মতো করলে সমস্যা আগেই ধরা যায়।
এটা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায় এর অন্যতম বড় ধাপ।

পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস কন্ট্রোল

ধ্যান, যোগব্যায়াম, হালকা ব্যায়াম স্ট্রেস কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

কম তেল, কম লবণ, বেশি সবজি, ফল, বাদাম, ওটস ইত্যাদি খেলে হৃদযন্ত্র শক্তিশালী থাকে।
মধ্যবয়সী নারীদের জন্য এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরিক সক্রিয়তা বাড়ান

প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে এবং হার্টের চাপ কমায়।

মহিলারা প্রায়ই নিজের ব্যথাকে লুকিয়ে রাখেন বা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক নীরবে হলেও বিপজ্জনক। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ছোট হলেও গুরুত্ব দিতে হবে। নিজের শরীরের সংকেতগুলোর প্রতি সচেতন থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করাই নিরাপদ ভবিষ্যতের পথ।

হৃদযন্ত্রকে নিরাপদ রাখা মানে নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখা। আজ থেকেই নিজের প্রতি একটু যত্নশীল হোন, আপনার হৃদয় আপনার হাতে।

Frequently Asked Questions:

মহিলাদের মধ্যে নীরব হার্ট অ্যাটাক বাড়ছে কেন?

স্ট্রেস, অনিয়মিত জীবনযাপন, এবং অন্যান্য কারণে। সকল মহিলারা অবশ্যই নিজেদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন, কোনও অসুবিধা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কীভাবে নীরব হার্ট অ্যাটাকের সাবধানতা অবলম্বন করা যায়?

স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, ও নিয়মিত ইসিজি, ইকো, লিপিড প্রোফাইল, ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে।

নীরব হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ বুঝবো কীভাবে?

যদি বুকজ্বালা, অস্বস্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ক্লান্তি নিয়মিত হয়, তাহলে সচেতন হোন। বিপদ বাড়ার আগেই ব্যবস্থা নিন, ডাক্তার দেখান।

Written and Verified by:

Dr. Dhiman Kahali

Dr. Dhiman Kahali

Director Exp: 46 Yr

Interventional Cardiology

Book an Appointment

Dr. Dhiman Kahali is the Director of Interventional Cardiology Dept. at BM Birla Heart Hospital, Kolkata, with over 37 years of experience. He specializes in angioplasty, mitral balloon dilation, and peripheral vascular interventions, and has been honored with the Gandhi Centenary and Mother Teresa International Awards.

Related Diseases & Treatments

Treatments in Kolkata

Cardiology Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now