Enquire now
Enquire NowCall Back Whatsapp
রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ: চিকিৎসা, পদ্ধতি, খরচ এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Home > Blogs > রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ: চিকিৎসা, পদ্ধতি, খরচ এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ: চিকিৎসা, পদ্ধতি, খরচ এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Cardiology | by Dr. Shuvo Dutta | Published on 09/05/2023


রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ বা বাত-জনিত হৃদ রোগ হল এমন একটি অবস্থা যখন বাতজ্বরের (rheumatic fever) কারণে হার্টের ভালভ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারনে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্ট্রেপ্টোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা না হলে বা একাধিক বার এই ধরনের সংক্রমণ হলে রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ হতে পারে। তাই এই রোগ সম্মন্ধে আমাদের সতর্ক থাকা বিশেষ ভাবে জরুরী।

রিউম্যাটিক হৃদরোগের লক্ষণ

রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ নির্ণয়ের সঠিক চাবিকাঠি হল রোগীর স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইনফেকশন হওয়ার (রিউম্যাটিক ফিভার) ইতিহাস খুঁজে বের করা। বাতজ্বরের লক্ষণগুলি পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ইনফেকশনের ১ থেকে ৬ সপ্তাহ পরে রোগের লক্ষণ বোঝা যায়। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ চেনা নাও যেতে পারে। 

বাতজ্বরের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ গুলি হল:

  • জ্বর
  • লাল হয়ে ফুলে যাওয়া এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক অস্থিসন্ধি (বিশেষত হাঁটু এবং গোড়ালি)
  • নোডুলস্ (ত্বকের নিচে ডেলা)
  • লাল জালির মতো ফুসকুড়ি (বুকে, পিঠে এবং পেটে)
  • শ্বাসকষ্ট এবং অস্বস্তি
  • হাত, পা বা মুখের পেশী গুলির অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • বুকে ব্যাথা

রিউম্যাটিক হৃদরোগের কারণ

রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজের প্রধান এবং অন্যতম কারণ হল আমাদের শরীরের সংযোজক কলায় প্রদাহ। বিশেষ করে হার্ট, জয়েন্ট, ত্বক বা মস্তিষ্কে। এইরকম প্রদাহের ফলে হার্টের ভালভ্ গুলি ফুলে যায় এবং কিছু সময় পরে সেগুলিতে স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে হার্টের ভালভ সংকুচিত বা ফুটো হয়ে যেতে পারে। এর ফলে হার্টের স্বাভাবিকভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পরে। যদিও এই অবস্থায় পৌছতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এবং এর ফলে শেষ পর্যন্ত হার্ট ফেইলিওর এর সম্ভাবনা থাকে।

রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ কিভাবে নির্ণয় করা হয়?

চিকিৎসকরা রিউম্যাটিক হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্ট্রেপ ইনফেকশন হয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন। এর জন্য একটি থ্রোট কালচার বা রক্ত ​​পরীক্ষা করা যেতে পারে।

রোগীর পূর্বতন রোগের ইতিহাস পরীক্ষার পাশাপাশি, রিউম্যাটিক হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য কিছু বিশেষ পরীক্ষা করা হয়। 

  • ইকোকার্ডিওগ্রাম: হার্টের চেম্বার এবং ভালভ্ পরীক্ষা করার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। প্রতিধ্বনিত শব্দ তরঙ্গ গুলি একটি ছবি তৈরি করে। এই ছবিতে হার্ট ভালভ্ ফ্ল্যাপের ক্ষতি, ভালভ্ -এর ফুটোর মাধ্যমে রক্তের ব্যাক-ফ্লো, হৃদপিন্ডের চারপাশে তরল এবং হৃদপিন্ডের বৃদ্ধি দেখতে পাওয়া যায়। এটি হার্টের ভালভ্ সমস্যা নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
  • ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি): এই পরীক্ষাটি হৃদস্পন্দন রেকর্ড করে। হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিক ছন্দ দেখে (অ্যারিদমিয়া বা ডিসরিদমিয়া) হৃৎপিণ্ডের পেশীর ক্ষতি সনাক্ত করা যায়। 
  • বুকের এক্স-রে: রোগীর ফুসফুস পরীক্ষা করতে এবং হৃৎপিণ্ডের আকার পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য একটি এক্স-রে করা যেতে পারে।
  • কার্ডিয়াক এমআরআই: এই পদ্ধতি হার্টের ভালভ্ এবং হার্টের পেশী গুলির আরও সুনির্দিষ্ট ছবি তুলতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাত-জনিত হৃদরোগ কিভাবে চিকিৎসা করা হয়?

হৃদপিন্ডের ভালভ্ -এর কতটা ক্ষতি হয়েছে তার উপর চিকিৎসা নির্ভর করে। সমস্যা গুরুতর হলে ক্ষতিগ্রস্ত ভালভ্ প্রতিস্থাপন বা মেরামতের জন্য অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে।

  • এই হৃদ রোগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হল স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইনফেকশন (বাতজ্বর) প্রতিরোধ করা। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ স্ট্রেপ সংক্রমণের চিকিৎসা করতে এবং বাতজ্বর নিরাময়ে কার্যকর। 
  • ইনফেকশন-জনিত প্রদাহ কমাতে এবং হার্টের ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (অ্যাসপিরিন, স্টেরয়েড বা নন-স্টেরয়েডাল) ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। 
  • হার্ট ফেইলিউর এর ঝুঁকি কমাতে অন্যান্য ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। 
  • যাদের বাতজ্বর হয়েছে তাদের নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ দেওয়া হয় যাতে পুনরায় সংক্রমণ ও হৃদরোগের ঝুঁকি না থাকে।

রিউম্যাটিক হৃদরোগে কেমন জীবন ধারা বজায় রাখা প্রয়োজন? 

রিউম্যাটিক হৃদরোগের লক্ষণ দেখা দিলে কয়েকটা বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরী। 

  • হার্টের অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তারের সাথে ঘন-ঘন ফলো-আপ করতে হবে। 
  • হার্টের ক্ষতির পরিমাণের উপর নির্ভর করে রোগীকে অত্যধিক শারীরিক ধকল দেয় এমন কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে । 
  • পুনর্বার স্ট্রেপ্টোকক্কাল সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকতে হবে।

রিউম্যাটিক হৃদরোগের জটিলতা কি কি?

রিউম্যাটিক হৃদরোগের কিছু প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:

  • হার্ট ফেইলিউর: এটি সংকীর্ণ বা ফুটো হার্ট ভালভ্ থেকে ঘটতে পারে।
  • ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস: এটি হৃদপিন্ডের অভ্যন্তরীণ আস্তরণের একটি সংক্রমণ। বাতজ্বরে হার্টের ভালভ্ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটি ঘটতে পারে।
  • হার্টের ক্ষতির কারণে গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের জটিলতা।
  • হার্টের ভালভ্ ফেটে যাওয়া।

রিউম্যাটিক হৃদরোগের ঝুঁকি কখন সবচেয়ে বেশি?

  • স্ট্রেপ সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা না করা বাতজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। 
  • যেসব শিশু বারবার স্ট্রেপ থ্রোট ইনফেকশনে আক্রান্ত হয় তাদের রিউম্যাটিক ফিভার এবং রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি বেশি থাকে।

এই রোগের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কি?

রিউম্যাটিক হৃদরোগ চিকিৎসার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সাধারণত বিরল। এর কারণ এই চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলি বেশ নিরাপদ। তবে কখনও কখনও কিছু ক্ষেত্রে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন - 

  • বমি বমি ভাব 
  • বমি হওয়া 
  • পেট খারাপ 
  • অ্যাসপিরিনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল আলসারেশন 
  • অম্বল
  • পেটে ক্র্যাম্পিং 
  • গ্যাস্ট্রাইটিস এবং রক্তপাত

এছাড়া হার্টে ভালভ্ প্রতিস্থাপনের কারণে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে যেমন 

  • হৃদযন্ত্রের ছন্দে অস্বাভাবিকতা
  • বুকে ব্যথা এবং জ্বর 
  • রক্ত ​​জমাট বাঁধা
  • শ্বাসকষ্ট 
  • সংক্রমণ

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রঃ কোন কোন রোগী দের রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ এর চিকিৎসার প্রয়োজন নেই?

জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা জয়েন্ট, জয়েন্টের প্রদাহ, গলায় ইনফেকশন, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি অন্যান্য কারণেও হতে পারে। এই সব লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও যদি বাতজ্বর ধরা না পড়ে এবং শারীরিক পরীক্ষায় হৃদযন্ত্রে কোনো গোঙানির আওয়াজ না শোনা যায়, তাহলে বাতজনিত হৃদরোগের চিকিৎসার দরকার নেই।

প্রঃ বাত-জনিত হৃদরোগের চিকিৎসার খরচ কত?

রিউম্যাটিক হৃদরোগের চিকিৎসার খরচ নির্ভর করে রোগের তীব্রতার ওপর। যদি সার্জারির প্রয়োজন হয় তাহলে চিকিৎসার খরচ (পরামর্শ, ওষুধ এবং সার্জারি সহ) ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বা তার বেশিও হতে পারে।

রিউম্যাটিক হৃদরোগের কারণ কী?

রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজের প্রধান কারণ শরীরে স্ট্রেপ্টোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। এর ফলে রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর হয় এবং আমাদের শরীরের সংযোজক কলায় প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহ থেকে হার্টের ভালভগুলি ফুলে যায় এবং চিরস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে। বাতজ্বর যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এর প্রবণতা সর্বাধিক।