
শীতকালে যেমন উৎসব, আনন্দ, সুস্বাদু খাবার নিয়ে আসে, তেমনই নিয়ে আসে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। তার মধ্যে বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
শীতকাল মানেই শুধু ঠান্ডা আর উৎসব নয়, এই সময় অনেকেরই হঠাৎ বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসনিতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই ভাবেন, “শীতের কারণে হচ্ছে, একটু পর ঠিক হয়েযাবে।” কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এতটা হালকা নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের বয়স বেশি, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁপানি বা হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শীতকালে এই উপসর্গগুলোকেএকেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।
এই ব্লগে আমরা জানব, শীতে কেন বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট বাড়ে, এর কারণ কী, কখন এটি হৃদরোগেরলক্ষণ হতে পারে এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি।
শীতের সময় শরীর নিজেকে গরম রাখতে রক্তবাহগুলোকে সংকুচিত করে। এর ফলে রক্তচাপ বাড়তেপারে এবং হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এই অতিরিক্ত চাপ থেকেই অনেক সময়বুকের ব্যথা অনুভূত হয়।
এছাড়া ঠান্ডা বাতাস শ্বাসনালীতে ঢুকলে শ্বাসনালী সঙ্কুচিত হয়ে যায়। যাঁদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টেরপ্রবণতা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। শীতকালে সংক্রমণ, সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো সমস্যাও শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয়।
বুকের ব্যথার কারণ
বুকের ব্যথা সবসময় হৃদরোগের জন্য হয় না। অনেক সময় গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেশিতে টান, ঠান্ডা লাগাবা দীর্ঘক্ষণ কাশি থেকেও বুকের ব্যথা হতে পারে। তবে ব্যথা যদি বুকের মাঝখানে চাপের মতো লাগে, বামহাতে, ঘাড়ে বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টি গুরুতর হতে পারে। এই সমস্যাগুলি হলে দ্রুতডাক্তার দেখান।
শ্বাসকষ্ট হওয়ার কারণ
শ্বাসকষ্ট হলে কী করবেন? এই প্রশ্ন অনেকেরই থাকে। শীতকালে শ্বাসকষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলোরমধ্যে রয়েছে হাঁপানি, COPD, ঠান্ডাজনিত সংক্রমণ, ফুসফুসে জল জমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা বা হার্টেরসমস্যা। অনেক সময় মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাক থেকেও শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। যে কারণেইহোক না কেন, শ্বাসকষ্ট হলে দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
শ্বাসকষ্ট হলে হালকা, উষ্ণ খাবার খাওয়া ভালো। আদা দেওয়া চা, তুলসি পাতা, মধু, গরম স্যুপ, হালকাভাপানো খাবার শ্বাসনালীকে আরাম দেয়। খুব ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্তখাবার এড়িয়ে চলা উচিত। তবে মনে রাখতে হবে, খাবার দিয়ে সাময়িক আরাম মিললেও এটি চিকিৎসারবিকল্প নয়। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো জরুরি।
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:
এই লক্ষণগুলো হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
অনেকে বুকের ব্যথা হলে ঘরোয়া উপায়ে গরম জল, সেঁক বা বিশ্রামের উপর ভরসা করেন। হালকাপেশীজনিত ব্যথায় এগুলো কাজ করতে পারে। কিন্তু যদি বুকের ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম বা অস্বস্তিথাকে, তখন ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে খোলা জায়গায় বসে ধীরে শ্বাস নেওয়া বা ইনহেলার ব্যবহারসাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে চিকিৎসা প্রয়োজন।
নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন:
এই লক্ষণগুলো জীবনঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। তাই তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী হাসপাতালে যাওয়াজরুরি।
শীতকালে বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট খুব সাধারণ মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতরসমস্যা। “শীতের জন্যই হয়েছে” ভেবে অবহেলা না করে নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন।সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসাই পারে বড় বিপদ এড়াতে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে এড়িয়ে যেতেপারেন অনেক বড় বিপদকেও।
সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন, এই শীতে নিজের হৃদযন্ত্র ও শ্বাসযন্ত্রের যত্ন নিন। কারণ, শরীর ঠিক থাকলেতবেই শীতের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। সুস্থতাই আনন্দের চাবিকাঠি।
শীতের সময় শরীর নিজেকে গরম রাখার জন্য শিরা, উপশিরা, ধমনীগুলিকে সংকুচিত করে। এরফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাটতে হয়। সাধারণত এইকারণে শীতকালে বুকে ব্যথা হয়।
শীতকালে শ্বাসকষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলি হল, হাঁপানি, COPD, ঠাণ্ডা লেগে সংক্রমণ, ফুসফুসেজল জমে যাওয়া, রক্তাল্পতা, হার্টের সমস্যা, ইত্যাদি।
বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট অনেকক্ষণ ধরে চলতে থাকলে এবং হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা প্রয়োজন।
Written and Verified by:

Dr. Sabyasachi Pal is a Senior Consultant in Cardiology Dept. at BM Birla Heart Hospital, Kolkata, with over 11 years of experience. He specializes in coronary interventions and heart failure management.
Similar Cardiology Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 BMB Kolkata. All Rights Reserved.