
যারা আর্থ্রাইটিস, এ ভুগছেন, তাদের কাছে শীত আরও কষ্টের ঋতু। ঠান্ডা পড়লেই হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়া, পা ভাঁজ করলে ব্যথা, সকালে ঘুম থেকে উঠেই জোড়ায় অস্বস্তি, এসব যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু কেন এমন হয়? আসলে আর্থ্রাইটিস কী, কেন শীতে ব্যথা বাড়ে, এবং কী কী উপায়ে এই ব্যথা কমানো যায়, তা জানুন।
আর্থ্রাইটিস হল হাঁটু, কোমর ও অন্যান্য জয়েন্টের একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যেখানে হাড়ের মাঝে থাকা কার্টিলেজ বা নরম স্তর ক্ষয় হতে থাকে। এই ক্ষয়ই জয়েন্টকে শক্ত করে দেয় এবং নড়াচড়া করতে গেলে ব্যথা সৃষ্টি করে। সাধারণভাবে হাঁটু, কোমর, কাঁধ, আঙুল, কবজি ইত্যাদিতে আর্থ্রাইটিস বেশি দেখা যায়।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, আর্থ্রাইটিস কী ভালো হয়? এর সম্পূর্ণ ‘আরোগ্য’ না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা, ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস এবং লাইফস্টাইল মেনে চললে ব্যথা উপশম হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।
আর্থ্রাইটিস যে শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট কারণে হয় তা নয়। বিভিন্ন কারণে এই রোগ হতে পারে। যেমন,
আর্থ্রাইটিস রোগের লক্ষণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাই শুরুতেই উপসর্গ চিনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যদি এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে সহজেই বোঝা যায়, এটি আর্থ্রাইটিস রোগ হতে পারে।
শীত আর আর্থ্রাইটিস যেন চিরশত্রু। শীতে ব্যথা বাড়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ।
ঠান্ডা লাগলে শরীর তাপ ধরে রাখতে চামড়ার উপরিভাগে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। ফলে জয়েন্টগুলিতে রক্ত কম পৌঁছায় এবং শক্ত ভাব বা ব্যথা বাড়ে।
জয়েন্টের মধ্যে থাকা লুব্রিকেটিং তরল ঠান্ডায় একটু ঘন হয়ে যায়, যার ফলে নড়াচড়ায় ব্যথা হয়।
শীতে পেশি বেশি শক্ত হয়ে থাকে। ফলে নড়াচড়া করতে গেলে জোড়ায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ব্যথা বাড়ে।
শীতে অনেকেই অলস হয়ে পড়েন, হাঁটাচলা কম করেন। পেশি কম ব্যবহৃত হলে আর্থ্রাইটিস ব্যথা বেড়ে যায়।
আর্থ্রাইটিসে ভুগলে শীতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিছু অভ্যাস পাল্টালেই ব্যথা অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিচে ধাপে ধাপে সেই উপায়গুলি বলা হলো।
সবচেয়ে জরুরি হলো শরীর ঠান্ডা না লাগানো।
অল্প হাঁটা, স্ট্রেচিং, হালকা যোগব্যায়াম, এসব পেশিকে সক্রিয় রাখে।
শীতেকালে জল কম খাওয়া হয়, তা জয়েন্টের তরলকে প্রভাবিত করে। তাই দিনে অন্তত ৮ গ্লাস জল খান।
ওজন অতিরিক্ত বেশি হলে হাঁটু ও কোমরে চাপ পড়ে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
উষ্ণ সেঁক পেশিকে শিথিল করে, ফোলা থাকলে ঠান্ডা সেঁক দিলে উপকার মেলে।
মাছ, ফ্ল্যাক্সসিড, আখরোট, এগুলি প্রদাহ কমায়।
শীতে রোদ কম পাওয়ার কারণে ভিটামিন D-র ঘাটতি হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিন।
ফিজিওথেরাপি জয়েন্টের স্টিফনেস কমায়, শক্তি বাড়ায়।
আর্থ্রাইটিস রোগের চিকিৎসা মূলত লক্ষণ অনুযায়ী করা হয়।
চিকিৎসা ও পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডাক্তার বা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের দেওয়া নির্দেশগুলি যথাযথভাবে মেনে চলা।
আর্থ্রাইটিস কি ভালো হতে পারে?
আর্থ্রাইটিস পুরোপুরি নির্মূল করার দাবি কোনও চিকিৎসকই করতে পারেন না। তবে, কিছু নিয়ম মেনে চললে আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শীতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা, এগুলি মানলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
শীতে আর্থ্রাইটিস সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তাপমাত্রা কমে গেলে জয়েন্টগুলি শক্ত হয়ে উঠে ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। নিজের শরীরকে বুঝুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ঠাণ্ডা যাতে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। চাইলেই পারবেন আর্থ্রাইটিস নিয়েও সুস্থ থাকতে।
সাধারণত হাড়ের জয়েন্টে থাকা কার্টিলেজ ক্ষয়ে গেলে এটা হয়। এছাড়াও অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।
সম্পূর্ণ ভালো হয় এমন দাবি করা অসম্ভব। তবে সঠিক চিকিৎসায় ও যত্নে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ঠিক সময়ে চিকিৎসা করান, ভালো থাকুন।
সুষম খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এবং অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর্থ্রাইটিস বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়। তবে কোনও বিশেষ কারণ থাকলে কমবয়সীদের মধ্যেও হতে পারে।
Written and Verified by:
-Dr.-Rakesh-Rajput-(-Orthoopaedic-).webp&w=256&q=75)
Dr. Rakesh Rajput is the HOD & Director of Orthopaedics Dept. at CMRI, Kolkata, with over 25 years of experience. He specializes in robotic knee and hip replacement, joint preservation, complex trauma care, and revision surgeries.
Similar Orthopedics & Joint Replacement Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.