
শীতের সকাল মানেই হালকা কুয়াশা, গরম চায়ের ধোঁয়া, আর লেপ-কম্বলের আরাম। কিন্তু যাঁরাআর্থ্রাইটিসে ভোগেন, তাঁদের কাছে শীতকাল অনেক সময়ই আরামের বদলে ব্যথা-বেদনা আর জড়তারবার্তা নিয়ে আসে।
শীতকালে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়ে, এবং তার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। ঋতু পরিবর্তন, তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বায়ুর চাপের হেরফের, সব মিলিয়ে শরীরের জয়েন্টগুলো যেনবেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ফলে হাঁটু, কনুই, আঙুল, কোমর কিংবা ঘাড়ের সন্ধিগুলোতে ব্যথা ওশক্তভাব বেড়ে যায়।
শীতে ব্যারোমেট্রিক প্রেসার বা বায়ুর চাপ কমে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে জয়েন্টের ভেতরের টিস্যু ওতরল পদার্থের উপর চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার প্রভাব আমরা ব্যথা হিসেবে অনুভব করি। ঠান্ডাতাপমাত্রায় রক্তবাহগুলো কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে জয়েন্টে রক্ত চলাচল ধীর হয়। এর ফলেজয়েন্টে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, পেশি ও লিগামেন্ট শক্ত হয়ে ওঠে, এবং স্বাভাবিক নড়াচড়াকঠিন লাগে। সিনোভিয়াল ফ্লুইড, যা জয়েন্টকে লুব্রিকেট বা পিচ্ছিল রাখতে সাহায্য করে, শীতেতুলনামূলক ঘন হয়ে পড়ে। এতে জয়েন্ট নড়াতে বেশি ঘর্ষণ তৈরি হয় এবং ব্যথা-জড়তা আরও বাড়ে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল শীতে অনেকেই শারীরিক সক্রিয়তা কমিয়ে ফেলেন। ঠান্ডার কারণেবাইরে বেরিয়ে হাঁটা বা ব্যায়াম করার আগ্রহ কমে যায়। শরীর যত কম নড়ে, জয়েন্ট তত বেশি শক্ত হয়, এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে। মানসিক দিকটিও অবহেলার নয়। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা শীতে বিষণ্ণতা বামুড সুইং বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতাকেও কমিয়ে দেয়।
শীতকালে আর্থ্রাইটিসের সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যেমন জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব, সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটু বা আঙুল নাড়াতে কষ্ট হওয়া, হঠাৎ ব্যথা বেড়ে গিয়ে স্বাভাবিক কাজ বন্ধ হয়েযাওয়া, হাঁটতে গিয়ে পায়ে ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, কিংবা ব্যথার কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
তবে কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো রেড ফ্ল্যাগ হিসেবে ধরা হয়, যেমন-
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ এগুলো অনেক সময়ইনফ্ল্যামেশন বাড়া, কার্টিলেজ ক্ষয়, কিংবা নার্ভ কম্প্রেশনের ইঙ্গিত দেয়।
শীতে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে কার্যকর কিছু ঘরোয়া সমাধান
শীতে ব্যথা কমাতে সবসময় ওষুধই প্রথম সমাধান নয়। দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ পরিবর্তনও বড়পার্থক্য তৈরি করতে পারে, যেমন,
ব্যথা যদি ঘরোয়া সমাধানে না কমে, তখন চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শীতকালে আর্থ্রাইটিসেরব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাধারণত যে চিকিৎসাগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলি হল-
অনেকেই শীতের ব্যথাকে ঋতুর স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু ব্যথা যখন
তখন আর দেরী করা ঠিক নয়। দ্রুত চিকিৎসকের সাথে কথা বলা দরকার। আর্থ্রাইটিসের সঠিকচিকিৎসা ও গাইডলাইন ব্যথা কমাতে, জয়েন্ট ক্ষয় ধীর করতে, এবং ভবিষ্যতের জটিলতা আটকাতেসাহায্য করে।
সচেতন থাকুন, ঠিক সময়ে ডাক্তার দেখান
শীতকাল আর্থ্রাইটিস রোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও, সচেতনতা ও সঠিক যত্নে এই সময়টা অনেকটাইসহজ করা যায়। শরীর উষ্ণ রাখা, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত জল, এবং সময়মতোচিকিৎসা, এসব ছোট ছোট অভ্যাস ব্যথা কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।
শীতে বায়ুর চাপ কমে যায়, শরীরের ভেতরের রক্তবাহ সংকুচিত হয়ে যায়, জয়েন্টের ভেতরের তরলশুকনো হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এরফলে ব্যথা বাড়ে।
গরম সেঁক দিন, উষ্ণ জলে স্নান করুন, পুষ্টিকর খাবার খান, এবং হালকা ব্যায়াম করুন।
জয়েন্ট পেইন অসহ্য হয়ে উঠলে, জয়েন্ট ফুলে উঠলে, রোজকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধাএলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন।
Written and Verified by:
-Dr.-Rakesh-Rajput-(-Orthoopaedic-).webp&w=256&q=75)
Dr. Rakesh Rajput is the HOD & Director of Orthopaedics Dept. at CMRI, Kolkata, with over 25 years of experience. He specializes in robotic knee and hip replacement, joint preservation, complex trauma care, and revision surgeries.
Similar Orthopedics & Joint Replacement Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.