
আজকের দ্রুতগতির জীবনে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং প্রসেসড ফুডের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা আমাদের অজান্তেই লিভারে মেদ জমিয়ে তুলছে, যাকে আমরা ‘ফ্যাটি লিভার’ বলে থাকি। শুধু স্থূলতা নয়, বরং ভুল জীবনযাত্রাই এই রোগের প্রধান কারণ। তবে সঠিক পথ্য এবং জীবনশৈলীতে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আজকাল অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে হঠাৎ করে রিপোর্টে একটি শব্দ দেখে চিন্তিত হয়েপড়েন, সেটি হল ফ্যাটি লিভার। বাইরে থেকে শরীরে তেমন কোনো লক্ষণ না থাকলেও, ভিতরে ভিতরেএই সমস্যা ধীরে ধীরে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে। তবে চিন্তা নেই, ভালো খবরটিহল এই, যে সঠিক জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং উপযুক্ত ডায়েট মেনে চললে ফ্যাটি লিভার দূরকরা যেতে পারে। এগুলি ফ্যাটি লিভারকে হার মানানোর সহজ ঘরোয়া উপায়।
এই বিস্তারিত লেখায় আমরা জানবো, ফ্যাটি লিভার কী, কেন হয়, ফ্যাটি লিভার কমানোর উপায়, ফ্যাটিলিভার কমানোর জন্য উপযুক্ত ব্যায়াম, ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্তদের জন্য সঠিক ডায়েট চার্ট এবংকখন অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ফ্যাটি লিভার রোগটি হল লিভারের এমন একটি পর্যায়, যেখানে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমাহতে থাকে। সাধারণভাবে লিভারে সামান্য পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যখন এই চর্বির পরিমাণ৫–১০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। এই অতিরিক্ত চর্বির কারণেলিভার টক্সিক পদার্থ অপসারণে ব্যর্থ হয়, লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
ফ্যাটি লিভার মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে, এই দুটি ভাগ হল:
বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বিতীয় ধরনের সমস্যা, তথা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সবচেয়েবেশি দেখা যাচ্ছে।
ফ্যাটি লিভার হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। সেই কারণগুলি হল,
এই কারণগুলো ধীরে ধীরে লিভারের উপর চাপ বাড়ায় এবং অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে।
ফ্যাটি লিভার কমানোর উপায় জানতে চাইলে প্রথমেই জীবনধারা পরিবর্তনের কথা বলতে হয়। কারণজীবনধারা পরিবর্তন করলে অনেকটাই সুরাহা পাওয়া সম্ভব।
১. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অল্প অল্প করে ওজন কমানো লিভারের চর্বি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর। হঠাৎ ডায়েট বা ক্র্যাশ ডায়েট নাকরে ধীরে ধীরে ওজন কমানোই নিরাপদ।
২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ফ্যাটি লিভার কমানোর ব্যায়াম লিভারের ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।
ফ্যাটি লিভারের জন্য উপকারী ব্যায়ামগুলি হল:
নিয়মিত শরীরচর্চা করলে লিভারের ফ্যাট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, ফলে সুস্থতা বাড়তে থাকে।
৩. রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ফ্যাটি লিভার দ্রুত বাড়ে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা ওডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন
অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলও ফ্যাটি লিভারের ক্ষতি বাড়াতে পারে। লিভার সুস্থ রাখতে অ্যালকোহল বন্ধকরাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
ফ্যাটি লিভারের সঠিক ডায়েট চার্ট: কী খাবেন, কী খাবেন না
যেসব খাবার খাওয়া উচিত:
এই খাবারগুলো লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত:
কারণ, এই খাবারগুলো লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়।
অনেক সময় ফ্যাটি লিভারে তেমন গুরুতর লক্ষণ দেখা যায় না। তবে নিচের সমস্যাগুলো হলে অবহেলানা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন,
সময়মতো চিকিৎসা না করালে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস পর্যন্ত হতে পারে।ভয় পাবেন না, কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলুন এবং ঠিক সময় ডাক্তারের পরামর্শ নিন, তাহলেই ভালোথাকবেন।
হ্যাঁ, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সঠিক ডায়েট ও ব্যায়ামে ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
হ্যাঁ, তবে সীমিত পরিমাণে এবং কম মিষ্টিযুক্ত ফল খাওয়াই ভালো।
নিয়মিত ডায়েট ও ব্যায়াম মেনে চললে ৩-৬ মাসের মধ্যে রিপোর্টে লিভারের উন্নতি দেখা যায়।
সব সময় নয়। অনেক ক্ষেত্রে জীবনধারা পরিবর্তনই যথেষ্ট। তবে সমস্যা গুরুতর হলে ডাক্তার ওষুধ দিতেপারেন।
অবহেলা করলে অবশ্যই বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ঠিক সময়ে চিকিৎসা করান।
Written and Verified by:

Consultant - GI & Hepato-Biliary Surgeon Exp: 26 Yr
Gastro Sciences
Dr. Ajay Mandal is a Consultant GI & Hepato-Biliary Surgeon at CMRI Hopsital, Kolkata, with over 20 years of experience. He specializes in liver, pancreatic, and colorectal cancers, performing complex surgeries including laparoscopic and robotic procedures.
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.