
শীতকাল এলেই অনেক হাঁপানি রোগীর দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। ঠান্ডা হাওয়া, ধুলোবালি, সংক্রমণ, সবমিলিয়ে এই সময়ে হাঁপানির সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। অনেকেই ভাবেন, শীতমানেই হাঁপানির কষ্ট বাড়বে। কিন্তু সঠিক যত্ন, সচেতনতা ও নিয়মিত চিকিৎসা মেনে চললে শীতকালেওহাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শীতকাল মানেই উৎসব, বেড়ানো, মেলা, বিয়েবাড়ি। কিন্তু, ঠাণ্ডা পড়লে হাঁপানির রোগীদের হুট করেবেড়ে যেতে পারে হাঁপানি। এবং, হাঁপানি বেড়ে গেলে শীতের সব মজা এককথায় মাটি হয়ে যায়। এইলেখায় আমরা জানব শীতকালে হাঁপানি কেন বাড়ে, হাঁপানি রোগের লক্ষণ কী কী, কী খেলে হাঁপানিভালো হয়, হাঁপানি হলে কী করণীয় এবং হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদেরপরামর্শ।
শীতকালে হাঁপানি বাড়ার পেছনে বেশ কিছু পরিচিত কারণ রয়েছে, যেগুলো অনেক সময় আমরা গুরুত্বদিই না। এগুলি হল-
এই সকল আপাত সাধারণ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলিই শীতকালে শ্বাসকষ্ট, বুক চেপে ধরা, হুইজিং ওকাশির মতো সমস্যাগুলিকে হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে।
হাঁপানি রোগের লক্ষণ অনেক সময় হালকা ভাবে শুরু হয়, কিন্তু অবহেলা করলে তা মারাত্মক আকারনিতে পারে। তাই শীতকালে নিজের এবং নিজের পরিবারের স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত খেয়াল রাখা জরুরি।
হাঁপানির সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে যেগুলি রয়েছে সেগুলি হল-
শীতকালে এই লক্ষণগুলো যদি ঘন ঘন দেখা যায়, তবে তা হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ইঙ্গিতহতে পারে। এই সমস্যাগুলি আপনার বা আপনার কাছের মানুষদের হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
শীতকালে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন খুব কাজেআসে। এগুলি হল:
এই ছোট অভ্যাসগুলো হাঁপানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় না হলেও শীতকালে হাঁপানির প্রকোপঅনেকটাই কমাতে সাহায্য করে। এগুলি মেনে চলুন, সমস্যা হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
হাঁপানিতে ভুগছেন এমন অনেকেই ভাবেন শীতে কেবল সমস্যা হলে তবেই ইনহেলার ব্যবহার করবেন।কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি বড় ভুল। যেগুলি দরকার সেগুলি হল-
শীতকালে হাঁপানি হলে কী করণীয় ভাবছেন? এই প্রশ্নের অন্যতম প্রধান উত্তর হল, নিজের ওষুধ নিয়মিতও সঠিকভাবে নেওয়া।
অনেকে প্রশ্ন করেন, কী খেলে হাঁপানি ভালো হয়? যদিও একা খাবার হাঁপানি সারাতে পারে না, তবু কিছুখাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
উপকারী খাবারের মধ্যে রয়েছে—
তবে খুব ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম বা অতিরিক্ত ফ্রিজের জল শীতে হাঁপানি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতেপারে। এগুলি খাওয়া যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তনও হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং বারবার অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
শীতে হাঁপানি বেড়ে গেলে কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন
কিছু লক্ষণ দেখলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া জরুরি।
যেমন,
এই অবস্থাগুলো গুরুতর হাঁপানি অ্যাটাকের ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
শীতকাল হাঁপানি রোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও সঠিক যত্ন ও সচেতনতা থাকলে এই সময়টিওনিরাপদভাবে কাটানো সম্ভব। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হল, নিজের ট্রিগার জানা, নিয়মিত ওষুধনেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনে সময়মতো ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
মনে রাখবেন, হাঁপানি মানেই অসহায়তা নয়। সঠিক পথে চললে শীতকালেও আপনিও সুস্থ থাকতেপারেন, স্বস্তিতে শীত উপভোগ করতে পারেন।
ঠাণ্ডায় শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায়, বাতাসে দূষণ ও ধুলো বেড়ে যায়, সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। এই সমস্ত কারণে শীতকালে হাঁপানি বেড়ে যায়।
আপনার যদি হাঁপানি থাকে, তাহলে অবশ্যই ইনহেলার ব্যবহার করুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিতেভুলবেন না।
আদা চা, উষ্ণ স্যুপ, ভিটামিন C সমৃদ্ধ ফল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
Written and Verified by:

Dr. Raja Dhar is the Director & Head of Pulmonology Dept. at BM Birla Heart Hospital and CMRI Hospital, Kolkata, with over 27 years of experience. He specializes in interstitial lung disease, asthma & allergy, COPD, sleep medicine, advanced lung function services, interventional & diagnostic pulmonology, rare stroke & orphan lung diseases, and all disciplines of respiratory medicine.
Similar Pulmonology Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.