
পাতলা হলেই যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি নেই, তা নয়। শহুরে জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে স্বাভাবিক ওজনের মানুষের মধ্যেও NAFLD (Non-Alcoholic Fatty Liver Disease) দ্রুত বাড়ছে। এই নিবন্ধে জেনে নিন এর কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এখন আর শুধু ফ্যাট নয়, ফিট বডিতেও ফ্যাটি লিভার।
রোগা চেহারা হওয়া সত্ত্বেও ফ্যাটি লিভার! ভারতের বিভিন্ন শহরে NAFLD বাড়ছে নীরবে
এক সময় মনে করা হতো ফ্যাটি লিভার শুধু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার ফল। কিন্তু আজকের বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। বর্তমানে বহু পাতলা বা স্বাভাবিক ওজনের মানুষও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যাকে বলা হয় Lean NAFLD (Non-alcoholic fatty liver disease). বিশেষ করে শহুরে জীবনে এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে, অথচ অনেকেই বিষয়টি জানেন না।
NAFLD হল শরীরের এমন একটি অবস্থা যেখানে অ্যালকোহল না খেলেও লিভারের ভেতরে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। সাধারণভাবে লিভারে সামান্য ফ্যাট থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যখন এই পরিমাণ ৫–১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তখন তা সমস্যা তৈরি করে।
শুরুতে এটি নিরীহ মনে হলেও সময়ের সঙ্গে লিভারের ইনফ্লেমেশন, ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিস পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই রোগ বহু বছর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই চলতে পারে।
বর্তমান শহুরে জীবনযাপন এর বড় কারণ। আমরা অনেকেই সারাদিন বসে কাজ করি, নিয়মিত শরীরচর্চা হয় না, আর খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট।
পাতলা হলেও শরীরের ভেতরে visceral fat বা অভ্যন্তরীণ চর্বি জমতে পারে, যা সরাসরি লিভারে প্রভাব ফেলে। বাইরে থেকে রোগীকে সুস্থ দেখালেও ভিতরে ভিতরে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
এছাড়াও জেনেটিক প্রবণতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ঘুমের অভাব ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে।
অনেকেই ভাবেন BMI স্বাভাবিক মানে ঝুঁকি নেই। বাস্তবে তা নয়। নিচের বিষয়গুলো থাকলে পাতলা মানুষও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন:
এই কারণগুলো ধীরে ধীরে লিভারে চর্বি জমাতে সাহায্য করে।
লিন ফ্যাটি লিভারের উপসর্গ ও নীরব সতর্ক সংকেত
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শুরুর দিকে প্রায় কোনো লক্ষণই থাকে না। তবে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে:
এই লক্ষণগুলো সাধারণ মনে করে আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি, অথচ এগুলো লিভারের সতর্ক বার্তা হতে পারে।
ফ্যাটি লিভার শনাক্ত করতে সাধারণত কয়েকটি পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হয়:
এই পরীক্ষাগুলো লিভারে চর্বির মাত্রা এবং ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে সাহায্য করে। সময়মতো ধরা পড়লে জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে অবস্থার উন্নতি সম্ভব।
রোগা মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষ্য থাকে ভেতরের ফ্যাট কমানো। শরীরের ভেতরের চর্বি কমানোর কিছু বাস্তবসম্মত উপায় দেখে নেওয়া যাক:
মনে রাখবেন, ফ্যাটি লিভার কমানোর ব্যায়াম মানেই কঠিন জিম নয়; নিয়মিত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টাহাঁটাও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আজকের দিনে ফ্যাটি লিভার আর শুধু স্থূল মানুষের সমস্যা নয়। রোগা বা ফিট শরীর মানেই সুস্থ লিভার, এই ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। সময়মতো সচেতন হলে এবং দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তন আনলে NAFLD নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ভয় না পেয়ে সময় মতো চিকিৎসা করান, ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলুন, এবং ওপরে আলোচিত বিষয়গুলি মেনে চলুন। নিজের লিভারকে ভালো রাখুন, ভালো থাকুন।
হ্যাঁ। এটাকে Lean NAFLD বলা হয়। বাইরে থেকে রোগী চিকন দেখালেও লিভারের ভেতরে চর্বি জমতে পারে।
প্রথমে তেমন সমস্যা না হলেও পরে লিভারে ইনফ্লেমেশন , স্কারিং এমনকি সিরোসিস পর্যন্ত হতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেকাংশে ঠিক করা সম্ভব।
নিয়মিত হাঁটা, চিনি কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার, এই চারটি বিষয় সবচেয়ে কার্যকর।
ঝুঁকি থাকলে বছরে অন্তত একবার লিভার ফাংশন ও আল্ট্রাসাউন্ড করানো ভালো।
Written and Verified by:

Dr. Anirban Chatterjee is a Consultant in Gastroenterology Dept. at CMRI, Kolkata, with over 37 years of experience. He specializes in gastroenterological emergencies, liver diseases, pancreatic disorders, and biliary endotherapy.
Similar Gastro Sciences Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.