
অনেকেই আছেন, যাঁদের খাওয়ার পরেই পেট ফোলা ফোলা লাগে, অস্বস্তি হয়। এটাকেই এক কোথায়পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং বলে। আসুন দেখে নেওয়া যাক এই সমস্যা কী এবং এর সমাধান কী।
রোজ রোজ ব্লোটিং বা পেট ফাঁপা: মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা নয় তো?
খাওয়ার পর পেট ফুলে গেছে, জামা টাইট লাগছে, সারাদিন অস্বস্তি, এগুলো কী আপনার কাছে রোজকারসমস্যা? অনেকেই ভাবেন গ্যাসের সমস্যা। কিন্তু যদি পেট ফাঁপা নিয়মিত হয়, তাহলে বিষয়টা শুধু গ্যাসেসীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আমাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেও এমনটাহয়। একে বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা।
চলুন সহজভাবে বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক।
মাঝে মাঝে পেট ফাঁপা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি সপ্তাহে কয়েকদিন বা প্রায় প্রতিদিনই এই অস্বস্তি থাকে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
আমাদের অন্ত্রে লক্ষ-কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই উপকারী। তারা খাবার ভাঙতেসাহায্য করে, প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
যখন ভালো ব্যাকটেরিয়া কমে যায় এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়ে, তখন তাকে বলা হয় গাটমাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা। এর ফলেই বারবার পেট ফাঁপা, অস্বস্তি এবং হজমের গোলমাল দেখাদিতে পারে।
শুধু পেট ফাঁপা নয়, আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন
এই উপসর্গগুলো একসঙ্গে থাকলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আমরা যে খাবার খাই, তার সব অংশ শরীর নিজে ভাঙতে পারে না। বিশেষ করে ফাইবার জাতীয় খাবারভাঙার কাজ অনেকটাই করে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া।
যদি ভালো ব্যাকটেরিয়া পর্যাপ্ত থাকে, তাহলে খাবার সঠিকভাবে ভাঙে এবং অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হয়না। কিন্তু ভারসাম্য নষ্ট হলে খাবার পুরোপুরি হজম হয় না। তখন অন্ত্রে ফার্মেন্টেশন বেড়ে গ্যাস তৈরিহয়, ফলে পেট ফাঁপা বাড়ে।
দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে “হঠাৎ করে পেট ফাঁপার চিকিৎসা” খুঁজতে হয় অনেককে। তবে আগেকারণ বোঝা জরুরি।
হালকা বা মাঝারি সমস্যা হলে কিছু সহজ অভ্যাস কাজে দিতে পারে। অনেকেই “পেট ফাঁপা দূর করারঘরোয়া উপায়” জানতে চান। নিচে কিছু কার্যকর পদ্ধতি দেওয়া হল,
অনেকে “নবজাতকের পেট ফাঁপা দূর করার ঘরোয়া উপায়” নিয়েও উদ্বিগ্ন থাকেন। শিশুদের ক্ষেত্রেঅবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া ঠিক নয়।
যদি হঠাৎ অস্বস্তি শুরু হয়:
তবে যদি ব্যথা, বমি বা জ্বর থাকে, তাহলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে সময় নষ্ট না করে ডাক্তারের কাছে যান।
সব পেট ফাঁপা ঘরোয়া উপায়ে সারানো যায় না। নিচে উল্লিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবশ্যইডাক্তারের কাছে যান:
চিকিৎসক প্রয়োজনে রক্তপরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। কারণ কখনওকখনও আইবিএস, সিলিয়াক ডিজিজ বা লিভারের সমস্যার সঙ্গেও এই উপসর্গ জড়িত থাকতে পারে।
স্বাস্থ্যকর অন্ত্র মানেই ভালো হজম। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে উপকার পাবেন,
এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে পেট ফাঁপা দূর করার উপায় হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
প্রায়ই পেট ফাঁপা হওয়া ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও, এর পেছনে গাট ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়াবড় কারণ হতে পারে। শুধু গ্যাসের ওষুধ খেয়ে সমস্যা চাপা না দিয়ে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনআনুন। প্রয়োজনে পরীক্ষা করিয়ে নিন। সচেতন থাকলে অন্ত্র সুস্থ থাকবে, আর রোজকার অস্বস্তিওকমবে।
না। গ্যাস ছাড়াও হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা গাট ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণেও হতেপারে।
হালকা সমস্যায় ধীরে খাওয়া, প্রোবায়োটিক খাবার ও হাঁটা উপকারী। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলেচিকিৎসা জরুরি।
প্রথমে খাদ্যাভ্যাস ঠিক করুন। উপসর্গ গুরুতর হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
শিশুকে ঢেকুর তুলতে সাহায্য করুন এবং শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। নিজে থেকে ওষুধ দেবেননা।
দই, ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল এবং পর্যাপ্ত জল খাবেন। প্রসেসড খাবার খাওয়া কমাতে হবে।
Written and Verified by:
-Dr.-Sanjay-Dey-Bakshi-(-General-Surgery-).webp&w=256&q=75)
Dr. Sanjay De Bakshi is a Consultant Surgeon in Surgical Gastroenterology at CMRI, Kolkata, with over 33 years of experience. He specializes in gallbladder surgery, hernia repair, and colorectal procedures.
Similar Gastro Sciences Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.