মাইগ্রেনের এমন ট্রিগার যা আপনি জানেন না
Home >Blogs >মাইগ্রেনের এমন ট্রিগার যা আপনি জানেন না

মাইগ্রেনের এমন ট্রিগার যা আপনি জানেন না

Neuro Sciences | by Dr. Deep Das on 17/01/2026

Summary

প্রচুর মানুষ মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন। মাইগ্রেন শুধুমাত্র সাধারণ মাথাব্যথা নয়, এটি একটি নিউরোলজিক্যাল সমস্যা। সাধারণ মাথাব্যথায় পুরো মাথায় হালকা বা মাঝারি ব্যথা অনুভূত হয়, কিন্তু মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাথার একপাশে, অথবা দুপাশে তীব্র যন্ত্রণা হয়। মাইগ্রেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানুন।

মাইগ্রেনের লক্ষণ কী কী?

মাইগ্রেনের লক্ষণ শুধুমাত্র মাথার যন্ত্রণায় সীমাবদ্ধ নয়। এই অসুখে বিভিন্ন ধরণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন- 

  • নাড়ির স্পন্দনের মতো দপ দপ করা ব্যথা: সাধারণত কপালের একপাশে, চোখের পিছনে, বা ঘাড়ে।
  • বমি বমি ভাব: অনেক মানুষের মাথার তীব্র যন্ত্রণার সঙ্গে বমিও হয়।
  • আলো ও শব্দে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা: উজ্জ্বল আলো বা জোরালো শব্দ মাইগ্রেনের যন্ত্রণাকে অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। 
  • ঘুমে ব্যাঘাত: ঘুম কম হওয়া বা ঘুম না আসা।
  • অত্যধিক দুর্বলতা: অকারণে অতিরিক্ত দুর্বলতা-ও মাইগ্রেনের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
  • খিদে ও তেষ্টা বেড়ে যাওয়া: হঠাৎ করে খিদে ও তেষ্টা বেড়ে গেলে তা মাইগ্রেনের উপসর্গ হতে পারে। 
  • বারবার মূত্রত্যাগ: স্বাভাবিকের থেকে বেশি মূত্রত্যাগ-এর চাপ এলে সেটিও মাইগ্রেনের পরোক্ষ লক্ষণ হতে পারে। 

মাইগ্রেনের বিভিন্ন পর্যায়

প্রিড্রোম, অরা, হেডেক, এবং পোস্টড্রোম – এই চারটি ধাপে আসে।

প্রতিটি ধাপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রইল:

  • প্রিড্রোম (Prodrome) বা সতর্কতা সংকেত: মাইগ্রেন শুরু হওয়ার এক বা দুইদিন আগে থেকে সুক্ষ্ম কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন, ক্লান্তি, ঘন ঘন হাই ওঠা, মুড সুইং, কোনও নির্দিষ্ট খাবার খেতে ইচ্ছে করা, পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ইত্যাদি।
  • অরা (Aura): মাইগ্রেনের এই ধাপটি সাধারণত মাথাব্যথা শুরুর ঠিক আগে বা মাথাব্যথা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ঘটে। এই পর্যায়ে দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হয়, উজ্জ্বল আলোয় এবং জোরে শব্দ হলে যন্ত্রণা বেড়ে যায়।
  • হেডেক (Headache): হেডেক হল মাইগ্রেনের যন্ত্রণার মূল পর্যায়। সঠিক চিকিৎসা করা না হলে এটি চার ঘণ্টা থেকে তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
  • পোস্টড্রোম (Postdrome): এই পর্যায়টি আসে ব্যথা চলে যাওয়ার পরে। বেশিরভাগ মানুষ চূড়ান্ত ক্লান্তি অনুভব করে। এছাড়াও, মাথা ভারী লাগা, ব্রেইন ফগ (ঠিকঠাক চিন্তা না করতে পারা) এই ধরণের সমস্যা গুলিও হতে পারে। 

মাইগ্রেনের এমন ট্রিগার যা আপনি জানেন না

মাইগ্রেনের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে এটি ব্রেন-এর রাসায়নিক ও স্নায়বিক কার্যকলাপ, এবং রক্তনালীর সংকোচন ও প্রসারনের সঙ্গে জড়িত, এমনটা বলা হয়ে থাকে। এবং, মাইগ্রেনের কারণ হিসাবে জিন বা বংশগতিও একটি বড় ভূমিকা পালন করে বলে ধরে নেওয়া হয়।

যে সমস্ত বিষয় মাইগ্রেন-কে ট্রিগার করে, সেগুলিকে নিজে চিনতে শিখলেই অনেকটা সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব, যেমন-

  • হরমোনের পরিবর্তন: মহিলাদের মধ্যে পিরিয়ডের আগে বা পিরিয়ড চলাকালীন, প্রেগন্যান্সিতে, বা মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠাপড়া মাইগ্রেনের একটি ট্রিগার।
  • খাদ্যাভাস: কিছু বিশেষ ধরণের খাবার ও পানীয়, যেমন প্রসেসড মাংস, অ্যালকোহল, ইত্যাদি মাইগ্রেনকে ট্রিগার করতে পারে। এছাড়াও, সময়মতো খাবার না খেলেও মাইগ্রেন ট্রিগার হতে পারে।
  • সেন্সরি কারণ: উজ্জ্বল আলো, চড়া রোদ, জোরে শব্দ, উগ্র গন্ধ, ধোঁয়া, ইত্যাদি মাইগ্রেনকে ট্রিগার করতে পারে।
  • মানসিক চাপ: আজকের দিনে কাজ বা পড়াশোনার অত্যধিক চাপ, প্রতিযোগিতায় ভরা জীবন মাইগ্রেনের একটি মুখ্য ট্রিগার।
  • ঘুমের পরিবর্তন: খুব কম ঘুমানো বা খুব বেশি ঘুমানো, দুটোই মাইগ্রেনকে ট্রিগার করতে পারে। 
  • পরিবেশগত কারণ: হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঋতু পরিবর্তন, এই সমস্ত বিষয়ও মাইগ্রেনকে ট্রিগার করতে পারে।
  • ওষুধের সাইড এফেক্ট: কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ মাইগ্রেনকে ট্রিগার করতে পারে, তাই ওষুধ সব সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত, এবং মাইগ্রেন হলে ডাক্তারকে জানানো উচিত।

কী খেলে মাথা ব্যথা কমে?

  • বাদাম, কলা, তরমুজ, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল, মাশরুম খেলে মাথাব্যথার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এবং, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথার ওষুধ খাবেন। 
  • তবে, গ্যাস থেকেও মাথা ব্যথা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে গ্যাস থেকে মাথা ব্যথা কমানোর উপায় হিসাবে, বাইরের খাবার খাওয়া কমান, প্রতিদিন ব্যায়াম করুন, অথবা অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন।
  • এবং বর্তমানে মাথা ও চোখ ব্যথার কারণ অতিরিক্ত ফোন এবং কম্পিউটারের ব্যবহারও। তাই স্ক্রিন টাইম লিমিট করুন, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দেখা বন্ধ করুন। 

সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ

  • আপনার সঙ্গে একটি ডায়েরি রাখুন, আপনার মাইগ্রেনের ট্রিগার, খাবার অভ্যাস, ঘুমের প্যাটার্ন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নোট করে রাখুন।
  • খালি পেটে থাকবেন না, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাবেন।
  • নিয়মিত ঘুমের রুটিন করুন, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমোতে যান এবং সকালে উঠুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি, হাঁটুন, সাইকেল চালান, সাঁতার কাটুন, জিম করুন, আপনার সুবিধা মতো সময় বের করে।
  • যোগব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মেডিটেশন, এগুলির মাধ্যমে স্ট্রেস ম্যানেজ করুন। 
  • ট্রিগারগুলিকে চিনে এড়িয়ে চলুন।

একটু সচেতন হলেই, মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সচেতন থাকুন, সুস্থ ভাবে বাঁচুন। 

Frequently Asked Questions

মাইগ্রেন কেন হয় এবং এর প্রতিকার কী?

মাইগ্রেন বিভিন্ন কারণে হতে পারে, অসহ্য মাথাব্যথায় ভুগলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না, তাতে অবস্থার অবনতি হতে পারে।

মাইগ্রেন কি স্ট্রেসের ফলে হয়?

মাইগ্রেন বিভিন্ন কারণে হতে পারে, স্ট্রেস একমাত্র কারণ নয়। তবে স্ট্রেস অবশ্যই মাইগ্রেনকে প্রভাবিত করে। স্ট্রেস কমাতে যোগাসন বা মেডিটেশন করুন। 

জীবনযাত্রা ঠিক করে কি মাইগ্রেন ঠিক করা সম্ভব?

স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং জীবনযাত্রায় ডিসিপ্লিন এনে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখা অবশ্যই সম্ভব। 

মাইগ্রেন কি খুব বিপজ্জনক?

প্রাথমিক ভাবে মাইগ্রেন বিপজ্জনক নয়, কিন্তু চিকিৎসা না করালে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা করান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন, সুস্থ থাকুন।

Written and Verified by:

Dr. Deep Das

Dr. Deep Das

Consultant - Neurology Exp: 26 Yr

Neurology

Book an Appointment

Dr. Deep Das is a Consultant in Neurology at CMRI Hospital, Kolkata, with over 20 years of experience. He specializes in acute stroke management, cerebral interventions, aneurysm coiling, and AVM embolization.

Related Diseases & Treatments

Treatments in Kolkata

Neuro Sciences Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now