স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ: FAST নিয়ম জানুন
Home >Blogs >স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ: FAST নিয়ম জানুন

স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ: FAST নিয়ম জানুন

Summary

স্ট্রোক এমন একটি ইমার্জেন্সি অসুস্থতা, যাতে কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক স্ট্রোক কী, কেন হয়, কোন কোন উপসর্গ দেখলে সচেতন হওয়া প্রয়োজন, FAST নিয়ম জেনে কীভাবে স্ট্রোক শনাক্ত করা যায়, এবং ব্রেন স্ট্রোকের সময় কী করার দরকার। এছাড়াও জেনে নিন ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় সম্বন্ধেও।

স্ট্রোক কী?

স্ট্রোক-এর সাধারণ অর্থ হল, মস্তিস্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হওয়া। আমাদের মস্তিস্ক সর্বদা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ব্রেনের কোনও অংশে হঠাৎ রক্ত পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেলে বা ব্রেন সেল-এ রক্তক্ষরণ হলে সেই অংশটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এর ফলেই হয় ব্রেন স্ট্রোক।

স্ট্রোক সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে,

১। ইসকেমিক স্ট্রোক- রক্তনালী ব্লক হয়ে গেলে

২। হেমারেজিক স্ট্রোক- রক্তনালী ফেটে গেলে

স্ট্রোক কেন হয়?

ব্রেন স্ট্রোক হলে কী হয়?

স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কের যে অংশ রক্ত পাচ্ছে না, সেই অংশের নিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ বন্ধ হতে শুরু করে। যেমন,

  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
  • হাঁটতে অসুবিধা হওয়া
  • আচরণে কথাবার্তায় অসংলগ্নতা প্রকাশ পাওয়া

কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে যেতে পারে বড় বিপদ, তাই সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।

স্ট্রোক-এর লক্ষণ চিনবেন কীভাবে?

স্ট্রোক চেনার জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে FAST নিয়ম মানা হয়। FAST, অর্থাৎ Face, Arm, Speech, ও Time.

F (Face) মুখ বেঁকে যাওয়া

মুখের একপাশ হঠাৎ ঢিলে হয়ে যায় বা ঝুলে পড়ে।

A (Arm) হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া

শরীরের একপাশের হাত বা পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া, জোর না থাকা, এগুলি স্ট্রোকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। 

S (Speech) কথা জড়িয়ে যাওয়া

হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়াও স্ট্রোকের লক্ষণ।

T (Time) ঠিক সময়ে নিন সঠিক স্টেপ

উপরে দেওয়া লক্ষণগুলির মধ্যে একটিও যদি দেখা যায় কারোর মধ্যে, তাঁকে নিয়ে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী হাসপাতালে যান।

FAST নিয়ম মনে রাখা মানেই কারোর জীবন বাঁচিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া।

ব্রেন স্ট্রোক হলে কী করণীয়?

  • সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং অন্যান্য স্ট্রোক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আছে এরকম হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যান
  • রোগীকে জোর করে হাঁটানো বা জল খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না
  • সময় লিখে রাখুন, কারণ এর ওপর ভিত্তি করে ডাক্তাররা চিকিৎসা করবেন
  • নিজে থেকে ওষুধ দেবেন না, যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিন

স্ট্রোকের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী কী?

স্ট্রোকের পর নানা সমস্যায় ভুগতে পারে রোগী। যেমন,

  • কথা বলায় সমস্যা হওয়া
  • হাঁটতে অসুবিধা হওয়া
  • মনে রাখতে না পারা
  • হাত পা সঠিকভাবে নাড়াতে না পারা
  • চোখ অতিরিক্ত ঝাপসা হয়ে যাওয়া

ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় কী কী?

  • রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • ধূমপান বন্ধ করুন
  • প্রতিদিন ব্যায়াম করার বা হাঁটার অভ্যেস করুন
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান, লবন, চিনি, তেল কম খান
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ স্থুলতা স্ট্রোকের অন্যতম বড় কারণ
  • স্ট্রেস কমান, কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দেয়

হিট স্ট্রোক ও ব্রেন স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য কী?

হিট স্ট্রোক

গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, এর ফলে হিট স্ট্রোক হয়।

ব্রেন স্ট্রোক

মস্তিস্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হলে বা রক্তক্ষরণ হলে ঘটে। 

দুই ক্ষেত্রেই রোগীর দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

স্ট্রোক এক ধরনের নীরব বিপদ, যা হঠাৎ করেই আঘাত হানে এবং মুহূর্তের মধ্যেই একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেশিরভাগ স্ট্রোকই প্রতিরোধযোগ্য। এর জন্য দরকার কেবলমাত্র কিছু সহজ, নিয়মিত অভ্যাস এবং সতর্কতা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্ট্রোকের প্রথম সংকেতগুলো চিনে নেওয়া।

FAST পদ্ধতি সেই কারণেই এত জরুরি। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, এসব দেখলেই এক মুহূর্ত দেরি না করে “Time”, অর্থাৎ সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রতিটি মিনিটে শত শত ব্রেন সেল মারা যায়। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো মানেই রোগীর ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যাওয়া।

এছাড়া জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, এগুলোর নিয়ন্ত্রণ স্ট্রোক প্রতিরোধে প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন অল্প হাঁটা, সুষম খাবার, কম লবণ, পর্যাপ্ত জল খাওয়া, ধূমপান ত্যাগ, এসব খুব সাধারণ অভ্যাস যা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। মানসিক চাপ কমানো, ভালো ঘুম, এবং নিয়মিত হেলথ চেক-আপও স্ট্রোক প্রতিরোধের বড় উপায়।

ব্রেন স্ট্রোকের পরে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কথা বলা, হাঁটা বা হাত–পা নাড়ানোর সমস্যায় ভোগেন। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। আপনার পরিবারে কারও স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে আরও বেশি সতর্ক থাকা জরুরি।

সবশেষে মনে রাখবেন, স্ট্রোক কারও বয়স দেখে আসে না। যে কেউ, যেকোনো মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারে। তাই যত বেশি সচেতন হবেন, তত বেশি আপনি এবং আপনার প্রিয়জন নিরাপদ থাকবেন। FAST জানুন, লক্ষণ দেখলেই দ্রুত পদক্ষেপ নিন এবং প্রতিদিনের অভ্যাসে স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন। জীবন মূল্যবান, একটি সিদ্ধান্তই তা বাঁচিয়ে দিতে পারে।

Frequently Asked Questions:

FAST-এর পুরো নাম কী?

Face, Arm, Speech, এবং Time. এই চারটি বিষয় জানা থাকলে দ্রুত রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব। হঠাৎ করে কারোর মুখের একপাশ ঝুলে গেলে, হাত অবশ হয়ে পড়লে, কথা জড়িয়ে গেলে সময়মতো সেই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্ট্রোক কী শুধু বয়স্কদের হয়?

না, স্ট্রোক যে কোনও বয়সের মানুষেরই হতে পারে। লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। ঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে বাঁচতে পারে একটি প্রাণ।

স্ট্রোক হলে কি বাঁচানো যায় না?

দেরী হয়ে গেলে বাঁচানো কঠিন হলেও হতে পারে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। 

Written and Verified by:

Dr. Arabinda Mukherjee

Dr. Arabinda Mukherjee

Consultant - Neurologist Exp: 50 Yr

Neuro Sciences

Book an Appointment

Dr. Arabinda Mukherjee is a Senior Consultant Neurologist at CMRI, Kolkata, with over 35 years of experience. He specializes in demyelinating disorders, epilepsy, multiple sclerosis, peripheral neuropathy, and stroke.

Related Diseases & Treatments

Treatments in Kolkata

Neuro Sciences Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now