.webp&w=3840&q=75)
লিউকোরিয়া বা সাদা স্রাব হল একটি অস্বাভাবিক আঠালো তরল যা মহিলাদের যোনি থেকে বের হয়, যা সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা স্বাস্থ্যবিধির অভাবের কারণে হয়। এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত যোনি স্রাব, চুলকানি, দুর্বলতা এবং পেট বা পিঠে ব্যথা। সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি মূল থেকে নিরাময় করা যেতে পারে।
গর্ভাবস্থা বা ওভুলেশনের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে ভ্যাজাইনা বাযোনিপথ থেকে স্বাভাবিকভাবেই সাদা স্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে। এটি অনেক সময় উদ্বেগের কারণহলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া। খুব বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
যোনি বা ভ্যাজাইনার স্বাভাবিক pH মাত্রা ৩.৮ থেকে ৪.৫-এর মধ্যে থাকা জরুরি। অতিরিক্তকেমিক্যালযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই হালকা, নিরাপদ ক্লিনজার ব্যবহার করাই ভালো। অথবা, শুধু জল দিয়ে পরিষ্কার রাখুন।
অতিরিক্ত চিনি খাওয়া শরীরে ইস্ট সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তাই মিষ্টিজাত খাবার কমিয়ে দইবা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। এর ফলে ভালো ব্যাকটেরিয়া বজায় থাকেএবং যোনির স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বা উদ্বেগ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে লিউকোরিয়াবা সাদা স্রাবের সমস্যা বেড়ে যায়। নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যেরপাশাপাশি শারীরিক সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে।
বাতাস চলাচল করতে পারে এমন আরামদায়ক কটনের অন্তর্বাস পরুন। এর ফলে অতিরিক্ত আর্দ্রতাজমে না, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত দুইবার অন্তর্বাস বদলানো এবংঅংশটি শুকনো রাখা লিউকোরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লিউকোরিয়া বলতে যোনিপথ বা ভ্যাজাইনা দিয়ে সাদা বা হালকা দুধের মতো স্রাব বের হওয়াকে বোঝায়।বেশিরভাগ সময় এটি স্বাভাবিক হলেও, রং অন্যরকম হলে, দুর্গন্ধ হলে, বা স্রাবের পরিমাণ বদলে গেলেতা সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।
না। ওভুলেশনের সময়, গর্ভাবস্থায় বা হরমোনের পরিবর্তনে স্বাভাবিকভাবেই সাদা স্রাব বাড়তে পারে।তবে যদি চুলকানি, দুর্গন্ধ বা জ্বালা থাকে, তখন অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
এর পেছনে থাকতে পারে ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ব্যক্তিগতপরিচ্ছন্নতার অভাব, অতিরিক্ত স্ট্রেস কিংবা দুর্বল ইমিউন সিস্টেম।
সাদা বা হলুদ স্রাবের পাশাপাশি তলপেটে ভারী ভাব, যোনিতে চুলকানি, প্রস্রাবের সময় জ্বালা, বা কখনওদুর্গন্ধ, এসব উপসর্গ দেখা যেতে পারে।
হালকা ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ঢিলেঢালা কটন আন্ডারওয়্যার পরা, পর্যাপ্ত জল পানকরা ও মশলাদার খাবার কমালে উপকার মিলতে পারে। তবে দীর্ঘদিন চললে চিকিৎসকের পরামর্শজরুরি।
সরাসরি নয়, কিন্তু যদি সংক্রমণ দীর্ঘদিন চিকিৎসা ছাড়া থাকে, তাহলে তা প্রজনন অঙ্গের ক্ষতি করতেপারে। তাই অবহেলা না করাই ভালো।
ডাক্তার সাধারণত প্যাপ স্মিয়ার, ভ্যাজাইনাল সোয়াব বা ইউরিন টেস্টের মাধ্যমে সংক্রমণের ধরননির্ধারণ করেন।
বারবার হলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে পুরো পরীক্ষা করানো জরুরি। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা, স্ট্রেস কমানো ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সাহায্য করে।
Written and Verified by:

Dr. Syed Monajatur Rahman is a Consultant in Obstetrics and Gynaecology Dept. at CMRI, Kolkata, with over 29 years of experience. He specializes in infertility treatments, IVF, IUI, high-risk obstetrics, and laparoscopic gynecological surgeries.
Similar Obstetrics and Gynaecology Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.