
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে সাদা স্রাব-ও একটি। জেনে নিন গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাবের খুঁটিনাটি।
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় শরীরে নানাধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে অনেক নতুন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতমহলো সাদা স্রাব। অনেক গর্ভবতী নারীই প্রশ্ন করেনগর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব হলে কি ক্ষতি হয়? এটি কিস্বাভাবিক, নাকি কোনো সমস্যার লক্ষণ? এই ব্লগে আমরা সহজ ভাষায় জানবো গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব কী, কখন এটি স্বাভাবিক, আর কখনডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি।
গর্ভাবস্থায় যে সাদা বা হালকা দুধের মতো তরল নিঃসরণ হয়, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়লিউকোরিয়া (Leucorrhoea)। এটি সাধারণত গন্ধহীন বা খুব হালকা গন্ধযুক্ত হয় এবং আঠালো বাপাতলা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং জরায়ু ও যোনিপথে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এরফলেই যোনি থেকে সাদা স্রাবের পরিমাণ বাড়ে। এই স্রাব মূলত যোনিকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করারএকটি প্রাকৃতিক উপায়।
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব স্বাভাবিক এবং এতে ভয়ের কিছু নেই। বিশেষ করে,
তাহলে এটি শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই ধরা হয়।
অনেক নারী লক্ষ্য করেন যে গর্ভাবস্থার প্রথম ও শেষ ত্রৈমাসিকে সাদা স্রাবের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যায়।এটিও সাধারণত স্বাভাবিক।
সব সাদা স্রাব কিন্তু এক রকম নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। নিচের লক্ষণগুলোথাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি,
এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তার দেখাতে দেরী করবেন না।
গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক সাদা স্রাব বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি সাধারণ কারণ হল,
১. যোনিতে সংক্রমণ (Vaginal Infection)
ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে সাদা স্রাব ঘন, দুর্গন্ধযুক্ত বা চুলকানিযুক্ত হতে পারে।
২. ইস্ট ইনফেকশন
এই ক্ষেত্রে স্রাব সাধারণত খুব ঘন, দইয়ের মতো হয় এবং তীব্র চুলকানি দেখা যায়।
৩. ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস
এতে স্রাব ধূসর বা সাদা হয় এবং দুর্গন্ধ থাকতে পারে।
৪.যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI)
কিছু ক্ষেত্রে যৌনবাহিত রোগের কারণেও গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব বেড়ে যেতে পারে, যা চিকিৎসা না করলে মাও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৫. জল ভাঙা ও সাদা স্রাবের পার্থক্য
অনেক সময় গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব ও জল ভাঙার পার্থক্য বুঝতে পারেন না। যদি স্রাবখুব পাতলা হয় এবং নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে এটি জল ভাঙার লক্ষণও হতে পারে, এই অবস্থায়দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত,
মনে রাখতে হবে, গর্ভাবস্থায় সামান্য সমস্যাকেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসাকরলে বেশিরভাগ সমস্যাই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গর্ভাবস্থায় সাদা স্রাব অধিকাংশ সময়েই স্বাভাবিক এবং এটি শরীরের একটিপ্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এর রং, গন্ধ বা সঙ্গে থাকা উপসর্গের পরিবর্তন হলে সেটি অবহেলা করাঠিক নয়। নিজের শরীরের প্রতি সচেতন থাকুন, সন্দেহ হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সুস্থ মা মানেই সুস্থ সন্তান, এই কথাটি মাথায় রেখে গর্ভাবস্থার প্রতিটি শারীরিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনও ক্ষতি হয় না। স্বাভাবিক সাদা স্রাব গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়। তবেসংক্রমণের কারণে স্রাব হলে ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে সমস্যা হতে পারে।
গর্ভাবস্থার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেকোনো সময় সাদা স্রাব হতে পারে। বিশেষ করে শেষ ত্রৈমাসিক বা লাস্ট ট্রাইমেস্টারে এর পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
না, শুধুমাত্র সাদা স্রাবের কারণে নর্মাল ডেলিভারিতে সমস্যা হয় না। তবে যদি স্রাব সংক্রমণজনিত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, কটন আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত জল খাওয়া সাহায্য করতে পারে।তবে কোনো ঘরোয়া ওষুধ বা টোটকা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
সাদা স্রাব সাধারণত আঠালো ও নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু জল ভাঙলে তরল খুব পাতলা হয়, বারবার বেরোয়এবং নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সন্দেহ হলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
Written and Verified by:

Dr. Syed Monajatur Rahman is a Consultant in Obstetrics and Gynaecology Dept. at CMRI, Kolkata, with over 29 years of experience. He specializes in infertility treatments, IVF, IUI, high-risk obstetrics, and laparoscopic gynecological surgeries.
Similar Obstetrics and Gynaecology Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.