PCOS-এর ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ যা নারীরা কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়
Home >Blogs >PCOS-এর ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ যা নারীরা কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়

PCOS-এর ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ যা নারীরা কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়

Summary

PCOS বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যা অনিয়মিত মাসিক, ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম এবং গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

পলিসিস্টিক ওভারির লক্ষণ: আপনি আক্রান্ত কিনা বুঝবেন কীভাবে?

  • অনিয়মিত পিরিয়ড, ৩৫ দিনের বেশি দেরী হওয়া, অনেকদিন পর হওয়া, অতিরিক্ত বা খুব কম রক্তস্রাব।
  • মুখে ব্রন, ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া, গলায়, ঘাড়ে বা বগলে কালচে ছোপ।
  • মুখে, বুকে, পেটে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে অতিরিক্ত লোম গজানো।
  • ওজন বেড়ে যাওয়া, পেটে চর্বি জমা, ওজন কমাতে ব্যর্থ হওয়া
  • স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া
  • ভীষণ মুড সুইং হওয়া, অকারণে মন খারাপ থাকা, কান্না পাওয়া

পলিসিস্টিক ওভারি কেন হয় তা জানেন?

পলিসিস্টিক ওভারি হওয়ার পিছনে কোনও গুরুতর কারণ নেই। এই অসুখ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে কয়েকটি তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। যেমন-

  • হরমোনের মাত্রা: শরীরে হরমোনের লেভেল ঠিক না থাকলে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও উচ্চ অ্যান্ড্রোজেন থাকলে পলিসিস্টিক ওভারি হতে পারে
  • জিনগত কারণ: মায়ের, দিদির, বা পরিবারের অন্য মহিলাদের মধ্যে থেকে থাকলে জিনগত কারণে হতে পারে
  • নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার অভাব: বিশৃঙ্খল জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়া, ঘুম কম হওয়া, এগুলির প্রভাবেও হতে পারে
  • অলস জীবনযাপন করা: নিয়মিত ব্যায়াম না করা এবং পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার ফলেও হতে পারে

পলিসিস্টিক ওভারি আসলে কী?

ডিম্বাশয় বা ওভারির বাইরের অংশে অনেক ছোট ছোট থলি বা ফলিকল তৈরি হয়, যেগুলির মধ্যে সাধারণত তরল পদার্থ থাকে। সেই কারণেই এগুলিকে পলিসিস্টিক ওভারি বলা হয়। আলট্রাসোনোগ্রাফি পরীক্ষা করে এগুলি দেখা যায়। এই সিস্টগুলি সাধারনত ডিম্বাশয়ের ধার বরাবর সারি বেঁধে থাকে। এই ছোট ছোট সিস্টগুলি সাধারণত বিপজ্জনক নয়। এগুলি মুলত অপরিপক্ক ডিম্বানু, যা ওভুলেশন-এর মাধ্যমে বেরোতে পারেনি। এই অতিরিক্ত ফলিকলগুলিই নানারকম শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের চিকিৎসা কী?

  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাকে নিয়ন্ত্রিত করা, এটি হল পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের হাত থেকে বাঁচার চাবিকাঠি।
  • মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবার কম খাওয়া, সবজি ও প্রোটিন বেশি করে খাওয়া
  • প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার জল খাওয়া, নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা
  • বাইরের অতিরিক্ত তেল মশলাদার খাবার এড়ানো অথবা কম খাওয়া
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা অথবা ব্যায়াম করা
  • যোগাসন ও মেডিটেশন করা, এর মাধ্যমে শরীর ও মন তরতাজা থাকে
  • মানসিক সুস্থতার জন্য দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা
  • প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো 
  • সমস্যা অনুযায়ী আপনার গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার আপনাকে ওষুধ দেবেন
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাবেন না
  • অন্যের কথা শুনে নিজের শরীর নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগবেন না
  • দরকার হলে মনোবিদের কাছে গিয়ে কাউন্সেলিং করাতে হবে

চিকিৎসা অবশ্যই করাবেন। অনেক দেরী হয়ে যাওয়ার আগেই গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিন। ঠিক সময়ে ডাক্তার দেখালেই বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব। 

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম কি ভয়ের?

আপাতদৃষ্টিতে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বিপজ্জনক নয়। তবে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে ভবিষ্যতে গুরুতর শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, যেমন-

  • সন্তানধারণ না করতে পারা
  • পিরিয়ডের সমস্যা বেড়ে যাওয়া
  • পেটের যন্ত্রণা হওয়া
  • টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া
  • ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়া
  • থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করা
  • হার্টের অসুখ হওয়া
  • ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে
  • স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে
  • জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে

পলিসিস্টিক ওভারিতে কি সন্তানধারণ অসম্ভব?

পলিসিস্টিক ওভারিতে সন্তানধারণ কিছুটা কঠিন হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়। সঠিক চিকিৎসা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ওভুলেশন ট্র্যাক করা, দরকার হলে ফার্টিলিটি চিকিৎসা, ইত্যাদির মাধ্যমে মা হওয়া সম্ভব। মা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে দেরী না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ, পলিসিস্টিক ওভারি থাকলে বয়স বাড়লে প্রেগন্যান্সি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 

পলিসিস্টিক ওভারি হলে নিজেকে ভালো রাখবেন কীভাবে?

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে উঠুন, চেষ্টা করুন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার।
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
  • পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপের মাধ্যমে আপনার পিরিয়ড সাইকেল ট্র্যাক করুন।
  • মা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ওভুলেশন কিট কিনে ওভুলেশন ট্র্যাক করুন।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। 
  • বেশি করে প্রোটিন ও শাকসবজি খান।
  • স্ট্রেস কমাতে নিজের হবি তৈরি করুন, ছবি আঁকুন, বাগান করুন, গান, বা নাচ, যেটা আপনার ভালো লাগে।
  • নিয়মিত সুগার, থাইরয়েড ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করান।
  • অন্য কেউ বডি শেমিং করলে তা এড়িয়ে যাবেন

অনেক মেয়েরাই লজ্জায় বা ভয়ে পলিসিস্টিক ওভারি নিয়ে কথা বলতে পারে না। কিন্তু এটা খুব সাধারণ একটি শারীরিক সমস্যা। আপনি একা নন, কথা বলুন, ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

আজকের যুগের এই লাইফস্টাইলজনিত অসুখ পলিসিস্টিক ওভারিকে সহজেই হার মানাতে পারবেন আপনি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন, সুস্থ থাকুন।

Frequently Asked Questions

পলিসিস্টিক ওভারি থাকলে কি মা হওয়া সম্ভব?

সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে অবশ্যই মা হওয়া সম্ভব। ফ্যামিলি প্ল্যানিং থাকলে গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিন

পিরিয়ডের সমস্যা মানেই কি পলিসিস্টিক ওভারি?

পিরিয়ডের সমস্যা মানে শুধুমাত্র পলিসিস্টিক ওভারি নয়, অন্য সমস্যাও হতে পারে। দ্রুত ডাক্তার দেখান।

পলিসিস্টিক ওভারি কি আলট্রাসোনোগ্রাফিতে ধরা পড়ে?

হ্যাঁ ধরা পড়ে, অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ডাক্তার দেখান, এবং পরামর্শ অনুযায়ী আলট্রাসোনোগ্রাফি করান। 

Written and Verified by:

Dr. Bikash Banerjee

Dr. Bikash Banerjee

Director & HOD Obstetrics & Gynecology Exp: 43 Yr

Obstetrics and Gynaecology

Book an Appointment

Dr. Bikash Banerjee is Director & HOD of Obstetrics & Gynaecology Dept. at CMRI, Kolkata with over 30 years of experience. He specializes in infertility & ART, laparoscopy & robotic gynaecological surgery, high-risk pregnancies, and complex gynaecological disorders.

Related Diseases & Treatments

Treatments in Kolkata

Obstetrics and Gynaecology Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now