পাইলস বা অর্শ থেকে মুক্তি পেতে জীবনযাত্রায় ৫টি পরিবর্তন
Home >Blogs >পাইলস বা অর্শ থেকে মুক্তি পেতে জীবনযাত্রায় ৫টি পরিবর্তন

পাইলস বা অর্শ থেকে মুক্তি পেতে জীবনযাত্রায় ৫টি পরিবর্তন

Summary

পাইলস বা অর্শ রোগে ভোগেন এমন মানুষ আমাদের চারপাশে প্রচুর আছেন। কিন্তু বেশিরভাগ রোগীই লোকলজ্জার ভয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন না। তবে জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিচে পাইলস থেকে স্বস্তি পাওয়ার ৫টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো:

১. প্রতিদিন ফাইবারযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ান: শাকসবজি ও ফলমূল মল নরম করতে সাহায্য করে।
২. সারাদিনে পর্যাপ্ত জল পান করুন: শরীর হাইড্রেটেড থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে।
৩. টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে চলুন: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মলদ্বারে চাপ বাড়ে, যা পাইলসের সমস্যা আরও জটিল করে।
৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: শারীরিক পরিশ্রম হজম প্রক্রিয়া সচল রাখে।
৫. মলত্যাগের চাপ উপেক্ষা করবেন না: যখনই প্রয়োজন হবে, দেরি না করে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করুন।

পাইলস বা অর্শ থেকে মুক্তি পেতে দরকার জীবনধারার কয়েকটি সাধারণ পরিবর্তন

পাইলস বা অর্শ, এই সমস্যাটির কথা শুনলেই অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। অথচ বাস্তবে আমাদেরদৈনন্দিন জীবনের ভুল অভ্যাসই ধীরে ধীরে এই সমস্যাকে ডেকে আনে। অনিয়মিত খাওয়া, কম জলপান, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা কোষ্ঠকাঠিন্য, সব মিলিয়ে পাইলস এখন খুবই সাধারণ একটি রোগেপরিণত হয়েছে। তবে, চিন্তা নে, ভালো খবরটি হল, জীবনধারায় কিছু সহজ পরিবর্তন করলেই পাইলসথেকে মুক্তির উপায় পাওয়া সম্ভব, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে।

এই ব্লগে আমরা জানব, পাইলসের কারণ, পাইলসের লক্ষণ, পাইলসের ঘরোয়া সমাধান, পাইলস হলেকী কী খাওয়া যাবে না, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পাইলস থেকে মুক্তি পেতে জীবনধারা বা লাইফস্টাইলে৫টি কার্যকর পরিবর্তন।

পাইলস (Haemorrhoids) কী এবং কেন হয়?

পাইলস বা অর্শ হল মলদ্বার বা রেক্টামের নিচের দিকের শিরাগুলি ফুলে যাওয়া। এই শিরাগুলিতেঅতিরিক্ত চাপ পড়লে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং সেখান থেকেই পাইলস বা অর্শের সমস্যা শুরুহয়।

পাইলস-এর সমস্যা হওয়ার প্রধান কারণগুলি কী কী?

  • দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকে অবহেলা করা
  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া
  • কম ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া
  • পর্যাপ্ত জল না পান করা
  • দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা
  • গর্ভাবস্থায় পাইলস দেখা দিতে পারে
  • ওজন অতিরিক্ত বেশি হলে পাইলস দেখা দিতে পারে
  • দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ফলেও পাইলস হতে পারে

এই কারণগুলির ফলে ধীরে ধীরে পাইলসের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলেএই সমস্যা বড় আকার ধারণ করতে পারে। 

পাইলস বা অর্শের সাধারণ লক্ষণ কী কী?

  • মলত্যাগের সময় বা পরে রক্তপাত হওয়া
  • পায়ুপথে জ্বালা বা চুলকানি হওয়া
  • মলদ্বারে ব্যথা বা অস্বস্তি হওয়া
  • বসতে অসুবিধা হওয়া
  • মলদ্বারের বাইরে গাঁট বা ফোলা ভাব
  • মলত্যাগের সময় অস্বস্তি

প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ হালকা থাকলেও অবহেলা করলে সমস্যা বাড়তে পারে।

পাইলস থেকে মুক্তি পেতে ৫টি জীবনধারা পরিবর্তন

প্রতিদিন ফাইবারযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ান

পাইলস থেকে মুক্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবার যোগ করা। ফাইবারপেটের মধ্যে মল-কে নরম করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয় এবং মলদ্বারে চাপ কম পড়ে।

প্রতিদিনের খাবারে কী কী অবশ্যই রাখবেন?

  • শাকসবজি
  • ফল (পেয়ারা, পেঁপে, নাশপাতি)
  • ওটস
  • ডাল
  • ব্রাউন রাইস

এই খাবারগুলি পাইলসের ঘরোয়া সমাধান হিসেবে অত্যন্ত উপকারী।

সারাদিনে পর্যাপ্ত জল পান করুন

জল কম খেলে মল শক্ত হয়ে যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের তীব্রতা বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস জলপান করলে অন্ত্র সুস্থ থাকে এবং পাইলসের সমস্যা কমে।

গরমকালে বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি হলে আরও বেশি জল পান করা জরুরি।

টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে চলুন

অনেকেই মোবাইল ফোন নিয়ে টয়লেটে বসে থাকেন দীর্ঘ সময়। এতে মলদ্বারের শিরায় অতিরিক্ত চাপপড়ে, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।

মনে রাখবেন:

  • টয়লেটে ১০ মিনিটের বেশি বসবেন না
  • জোর করে চাপ দিয়ে মলত্যাগের চেষ্টা করবেন না

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ। নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়ামপাচনতন্ত্রের কার্যকারিতাকে স্বাভাবিক রাখে।

সহজ অভ্যাস:

  • প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা
  • হালকা স্ট্রেচিং
  • বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ানো

মলত্যাগের চাপ উপেক্ষা করবেন না

প্রাকৃতিক মলত্যাগের চাপ এলে দেরি করলে মল শক্ত হয়ে যায়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে এবং পাইলসেরসমস্যা তীব্র হয়।

সময়মতো টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, এটি পাইলস থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে খুবই কার্যকর।

পাইলস হলে কী কী খাওয়া যাবে না?

পাইলসের সময় কিছু খাবার সমস্যা বাড়াতে পারে। যেমন,

  • অতিরিক্ত ঝাল খাবার
  • ভাজাভুজি
  • ফাস্ট ফুড
  • প্রসেসড খাবার
  • অ্যালকোহল
  • অতিরিক্ত চা–কফি

এই খাবারগুলো অন্ত্রে জ্বালা সৃষ্টি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেয়।

পাইলসের প্রাথমিক চিকিৎসা কী এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনধারার পরিবর্তন ও খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনলে অনেক সময় পাইলস নিয়ন্ত্রণেথাকে। তবে নিচের লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • নিয়মিত রক্তপাত
  • তীব্র ব্যথা
  • গাঁট বড় হয়ে যাওয়া
  • ঘরোয়া উপায়ে উপকার না হওয়া

সময়মতো চিকিৎসা করালে বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রেই পড়ে না। অহেতুক দুশ্চিন্তাকরবেন না। ঠিক সময়ে চিকিৎসা করান, সুস্থ জীবনযাপন করুন।

Frequently Asked Questions 

পাইলস কি পুরোপুরি ভালো হয়?

হ্যাঁ, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক জীবনধারা পরিবর্তন ও চিকিৎসায় পাইলস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

পাইলস কি শুধু কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য হয়?

না, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান কারণ হলেও দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, গর্ভাবস্থা ও স্থূলতাও পাইলসের কারণ হতেপারে।

পাইলস হলে কি হাঁটা নিরাপদ?

অবশ্যই। নিয়মিত হাঁটা পাইলসের জন্য উপকারী এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

পাইলসের ঘরোয়া সমাধান কি কার্যকর?

প্রাথমিক অবস্থায় ফাইবারযুক্ত খাবার, জল পান ও অভ্যাস পরিবর্তন বেশ ভালো রকম কার্যকরী হতেপারে।

পাইলস কি বারবার ফিরে আসে?

ভুল জীবনধারা বজায় থাকলে পাইলস ফিরে আসতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি।

Written and Verified by:

Dr. Sanjay De Bakshi

Dr. Sanjay De Bakshi

Consultant Surgeon Exp: 43 Yr

Gastro Sciences

Book an Appointment

Dr. Sanjay De Bakshi is a Consultant Surgeon in Surgical Gastroenterology at CMRI, Kolkata, with over 33 years of experience. He specializes in gallbladder surgery, hernia repair, and colorectal procedures.

Related Diseases & Treatments

Treatments in Kolkata

General Surgery Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now