কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
Home >Blogs >কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

Summary

বর্তমানে কিডনিতে স্টোন বা কিডনির পাথর হওয়া অত্যন্ত বেড়ে গেছে। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেএবং ঠিক সময়ে চিকিৎসা করলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

কিডনি স্টোন কেন হয়, এবং এর থেকে বাঁচার উপায় কী?

আজকের ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং কম জল খাওয়ার অভ্যাস, সব মিলিয়েকিডনিতে পাথরের সমস্যা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে মাঝবয়সী পুরুষদের মধ্যেকিডনি স্টোনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে। অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়েলক্ষণ স্পষ্ট না হওয়ায় রোগটি ধরা পড়ে বেশ দেরী করে। তাই কিডনিতে পাথর কেন হয়, এর লক্ষণ কীএবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, এই বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।

কিডনিতে পাথর বা কিডনি স্টোন কী?

কিডনিতে পাথর (কিডনি স্টোন) হল শক্ত খনিজ ও লবণের জমাটবদ্ধ রূপ, যা কিডনির ভেতরে তৈরিহয়। সাধারণত প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড বা ফসফরাস বেশি মাত্রায় জমেগেলে ধীরে ধীরে পাথরের আকার নেয়। এই পাথর ছোট হলে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বড়হলে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করে।

কিডনিতে পাথর এক ধরনের নয়, ক্যালসিয়াম স্টোন, ইউরিক অ্যাসিড স্টোন, স্ট্রুভাইট স্টোন ও সিস্টিনস্টোন, এই চার ধরনের পাথরই বেশি হতে দেখা যায়। এবং এই ধরণের স্টোন হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভবডাক্তার দেখানো জরুরি, নাহলে সমস্যা বাড়তে পারে।

কিডনিতে পাথরের সাধারণ লক্ষণ কী কী?

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে আলাদা আলাদা হতে পারে। অনেক সময় পাথর ছোট থাকলেকোনও উপসর্গই দেখা যায় না। তবে পাথর বড় হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা যায়, সেগুলি হল,

  • কোমরের একপাশে বা পিঠের নিচে তীব্র ব্যথা
  • ব্যথা ধীরে ধীরে তলপেট বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়া
  • প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা ব্যথা হওয়া
  • প্রস্রাবের রঙ লাল, গোলাপি বা বাদামি ধরণের হওয়া
  • বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া কিন্তু অল্প প্রস্রাব হওয়া
  • বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • সংক্রমণ হয়ে জ্বর ও কাঁপুনি দেওয়া

এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দ্রুত আপনার নিকটবর্তী ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

কিডনিতে পাথর কেন হয়?

অনেকেই প্রশ্ন করেন, কিডনিতে পাথর কেন হয়? কিডনি স্টোন হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে,যেগুলি হল:

  • পর্যাপ্ত জল না পান করা
  • অতিরিক্ত লবণ ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া
  • অনেকটা সময় জুড়ে প্রস্রাব চেপে রাখা
  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন
  • আগে পরিবারের কারও কিডনির সমস্যা হয়ে থাকলে
  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বিশেষ করে গরমের সময় শরীরে জলের ঘাটতি হলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের কার্যকর উপায় কী কী?

কিডনিতে পাথর একবার হলে আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিরোধই হল সবচেয়ে ভালোউপায়। কিডনি স্টোন-এর হাত থেকে বাঁচতে যা যা করা জরুরি তার একটি ছোট্ট তালিকা নিচে দেওয়াহল।

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, দিনে অন্তত ২.৫–৩ লিটার অবধি
  • বেশি সময় প্রস্রাব আটকে রাখবেন না
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, হাঁটাহাঁটি করুন
  • অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া এড়িয়ে চলুন

এই ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

কিডনিতে পাথর হলে কী কী খাওয়া উচিত ও কী কী খাওয়া উচিত নয়?

সঠিক ডায়েট কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখে নিন কী কী খাবেন ও কী কী খাবেন নাতার তালিকা।

কিডনি স্টোন প্রতিরোধে যা যা খাওয়া উচিত:

  • পর্যাপ্ত জল ও তরল জাতীয় খাবার
  • লেবু জল, কারণ লেবুতে উপস্থিত সাইট্রেট পাথর গঠনে বাধা দেয়
  • ফল ও সবুজ শাকসবজি বেশি খাবেন
  • কম ফ্যাটযুক্ত দুধ ও দই

যে যে খাবার এড়িয়ে চলা উচিত:

  • অতিরিক্ত লবণ যুক্ত খাবার
  • ভাজা ও প্রসেসড খাবার
  • অতিরিক্ত রেডমিট
  • সফট ড্রিঙ্কস ও প্যাকেটজাত জুস এড়ানো জরুরি

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট ঠিক করলে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

অনেকেই সাধারণ পেটব্যথা ভেবে ব্যথা সহ্য করে বাড়িতেই থাকেন, যা একেবারেই উচিত নয়। নিচেরপরিস্থিতিতে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, 

  • ব্যথা কয়েকদিন ধরে হলেই ডাক্তার দেখান
  • প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হলে
  • জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে
  • বারবার বমি হলে
  • দীর্ঘদিন ব্যথা না কমলে

সময়মতো চিকিৎসা না করলে কিডনি ড্যামেজ পর্যন্ত হতে পারে। তাই, ঠিক সময়ে সঠিক স্টেপ নিন। চিন্তানা করে স্বাস্থ্যের যত্ন নিন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, নিজের কিডনিকে সুরক্ষিত রাখুন।

Frequently Asked Questions

কিডনিতে পাথর কি নিজে নিজে সেরে যায়?

ছোট পাথর অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে নিজে থেকেই বেরিয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথরের ক্ষেত্রেচিকিৎসা বা সার্জারি দরকার।

কিডনিতে পাথর হলে কতদিন ব্যথা থাকে?

পাথরের আকার ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে।

কিডনিতে পাথর হলে ফল খাওয়া কি নিরাপদ?

সাধারণত ফল খাওয়া নিরাপদ, তবে নির্দিষ্ট ডায়েটের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কিডনিতে পাথর কি আবার হতে পারে?

হ্যাঁ, একবার হলে ভবিষ্যতে আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কিডনিতে পাথর শনাক্ত করতে কোন পরীক্ষা করা হয়?

কিডনি স্টোন শনাক্ত করার জন্য সাধারণত USG, CT Scan, ইউরিন টেস্ট ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

Written and Verified by:

Dr. Pankaj Kumar Gupta

Dr. Pankaj Kumar Gupta

Consultant - Urologist Exp: 17 Yr

Urology

Book an Appointment

Dr. Pankaj Kumar Gupta is a Consultant in Urology Dept. at CMRI, Kolkata with over 10 years of experience. He specializes in renal stone management, prostate & uro-oncology surgery, reconstructive urology including urethroplasty.

Related Diseases & Treatments

Treatments in Kolkata

Renal Sciences Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now