
শীতকাল মানেই নানান উৎসব, অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ি, আরাম আর গরম গরম খাবার খাওয়ার মজা।কিন্তু যাঁরা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই ঋতুটা একটু বেশি সতর্ক থাকার সময়। কীভাবে থাকবেন, জেনে নিন এই ব্লগে।
শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকলাপে প্রভাব ফেলে, যারফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ও হার্টের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই শীতকালে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগথাকলে দ্বিগুণ সতর্কতা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরের রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়েযাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে ঠান্ডার কারণে শরীর ইনসুলিনহরমোন ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতেপারে।
এছাড়া শীতে ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি কমে যায়, এর সঙ্গে বেশি ভাজা ও শীতের স্পেশাল পিঠেপুলি জাতীয়খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এই সব মিলিয়ে ডায়াবেটিস সংক্রান্ত সমস্যাগুলি শীতকালে আরওপ্রকট হয়ে ওঠে। সুতরাং, উইন্টার সিজন বা শীতকাল মানে শুধু ঠাণ্ডা লাগা, কফ কাশি নয়, ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যাও।
শীতকালে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে হরমোনাল পরিবর্তনঘটে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেওডায়াবেটিসের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই জন্যে, শীতে সুগার রোগীদের জন্যদরকার নিজের এক্সট্রা যত্ন নেওয়া।
হৃদরোগের ক্ষেত্রে ঠান্ডা আবহাওয়া হৃৎপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। হার্ট দ্রুত রক্ত পাম্পকরতে শুরু করে, যার ফলে বুকে চাপ, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক হার্টবিটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।সেই জন্যে, হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
ডায়াবেটিস হলে কী কী সমস্যা হয়? শীতকালে কিছু লক্ষণ একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়, বিশেষকরে যাঁদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ রয়েছে। শীতকালে ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ওপ্রতিকার সম্পর্কে সতর্ক হোন। খেয়াল রাখুন এই ধরণের সমস্যাগুলি হচ্ছে কিনা,
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে মোটেই দেরী করবেন না। সম্ভব হলে সেদিনেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াজরুরি।
অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে, ডায়াবেটিস কী? সহজভাবে বলতে গেলে, এটি এমন একটি অবস্থা যেখানেপ্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন হরমোন তৈরি করতে পারে না বা ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজকরে না। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে অন্যান্যবিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাকেই ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস দুই ধরণের হয়। ডায়াবেটিস টাইপওয়ান, এবং ডায়াবেটিস টাইপ টু।
শীতকালে খাবারের ধরন বদলে যায়, পানি কম খাওয়া হয় এবং শরীরচর্চা কমে যায় - এই সব কারণেডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শীতকালে নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা অত্যন্তজরুরি।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস শীতকালে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি। স্বাস্থ্যকর খাবারখেলে অনেক রোগের প্রকোপ আটকানো যায়।
এই খাদ্যাভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
হৃদরোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও অনিয়মিতজীবনযাপন। শীতকালে এই সমস্যাগুলো আরও বাড়তে পারে।
প্রতিকার হিসেবে যেগুলি করতে হবে-
এই অভ্যাসগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।
ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ একসঙ্গে থাকলে শীতকালে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। তবে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই ঋতুতেও সুস্থ থাকা সম্ভব। মনে রাখবেন, শীতকাল উপভোগ করতে হলে আগে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখা জরুরি।
শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া হৃৎপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। ঠাণ্ডায় শরীরের রক্তবাহগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। এরফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এটা ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে। বারবার তৃষ্ণা পেলে, চোখে ঝাপসা দেখলে, হাত-পা ঝিনঝিনকরলে, অথবা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সবুজ শাকসবজি, ওটস, ডাল, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন। অতিরিক্ত তেলযুক্তখাবার এড়িয়ে চলুন।
Written and Verified by:

Consultant Endocrinologist & Diabetologist Exp: 31 Yr
Diabetes & Endocrinology
Dr. Ravi Kant Saraogi is a Consultant in the Diabetes & Endocrinology Department at BM Birla Hospital, Kolkata with over 22 years of experience. He specializes in diabetic foot care, and management of peripheral neuropathy.
Similar Diabetes & Endocrinology Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 BMB Kolkata. All Rights Reserved.