হঠাৎ করে ওজন বেড়ে গেছে? থাইরয়েড-এর গোলমাল নয়তো?
Home >Blogs >হঠাৎ করে ওজন বেড়ে গেছে? থাইরয়েড-এর গোলমাল নয়তো?

হঠাৎ করে ওজন বেড়ে গেছে? থাইরয়েড-এর গোলমাল নয়তো?

Summary

আজকের দিনে অল্পবয়সীদের মধ্যে ওজন বৃদ্ধি ও থাইরয়েডের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। আসুনদেখে নেওয়া যাক কী কী কারণে এমন হচ্ছে, প্রতিরোধের উপায়ই বা কী।

ওজন বৃদ্ধি নাকি থাইরয়েড-এর সমস্যা? পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে?

হঠাৎ করে ওজন বাড়ছে? ডায়েট ঠিক আছে, তবু ওজন কমছে না? অনেকেই তখন প্রথমেই ভাবেন, এটাকি থাইরয়েড-এর সমস্যার কারণে হছহে? আবার অনেক সময় সাধারণ জীবনযাপনের কারণেও ওজনবৃদ্ধি হতে পারে। তাহলে কীভাবে বুঝবেন আসল কারণটা কোথায়? এই লেখায় সহজ ভাষায় সেইপার্থক্যটাই পরিষ্কার করে বোঝানোর চেষ্টা করা হল।

থাইরয়েড-এর সমস্যা কী এবং এটি ওজনের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?

আমাদের গলার ভেতরে সামনের দিকে একটি ছোট প্রজাপতির মতো দেখতে গ্রন্থি রয়েছে, সেটির নামইথাইরয়েড গ্রন্থি। এটি এমন কিছু হরমোন তৈরি করে (T3, T4, TSH) যা শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণকরে। অর্থাৎ আমরা কত দ্রুত ক্যালোরি পোড়াবো, শক্তি ব্যবহার করবো, এই বিষয়গুলি অনেকটাইনির্ভর করে থাইরয়েডের উপর।

যখন থাইরয়েড ঠিকমতো কাজ করে না, তখন তাকে বলা হয় থাইরয়েড-এর সমস্যা। থাইরয়েডেরসাধারণত দুই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়,

  • হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড প্রয়োজনের থেকে কম হরমোন তৈরি করে
  • হাইপারথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড প্রয়োজনের থেকে বেশি হরমোন তৈরি করে

ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূলত হাইপোথাইরয়েডিজম দায়ি। এতে শরীরের মেটাবলিজম ক্ষমতা অনেক কমেযায়। ফলে ক্যালোরি পোড়ে কম, শরীরে জল জমে, ফোলাভাব আসে এবং ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি হয়।তবে মনে রাখতে হবে, থাইরয়েডের কারণে ওজন বাড়া সাধারণত খুব বেশি হয় না; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই২–৫ কেজির মতো বৃদ্ধি দেখা যায়। তবে মানুষভেদে ওজন বেশি বৃদ্ধিও হতে পারে। 

থাইরয়েড ছাড়া ওজন বৃদ্ধির সাধারণ কারণ

সব ওজন বৃদ্ধি-র পেছনে থাইরয়েড কাজ করে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারণ থাকে দৈনন্দিনঅভ্যাসে।

১. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস

বারবার জাঙ্ক ফুড, মিষ্টি, সফট ড্রিঙ্কস খেলে ক্যালোরি দ্রুত জমে যায়। এতে শরীরে ফ্যাট বাড়ে।

২. কম শারীরিক পরিশ্রম

দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, ব্যায়াম না করা, এই বিষয়গুলি মেটাবলিজম ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়।

৩. হরমোনাল পরিবর্তন

মহিলাদের ক্ষেত্রে  পিসিওএস, মেনোপজ বা গর্ভধারণ-পরবর্তী সময়েও ওজন বাড়তে পারে।

৪. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব

স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে গেলে শরীরে ফ্যাট জমা সহজ হয়।

৫. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্টেরয়েড, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা জন্মনিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধেও ওজন বাড়তে পারে।

তাই শুধু ওজন বাড়লেই “থাইরয়েড হলে কী কী সমস্যা হয়” ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

কোন লক্ষণগুলি থেকে আন্দাজ করা যায় যে ওজন বৃদ্ধি থাইরয়েডের জন্য হতে পারে?

এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কীভাবে বুঝবেন আপনার ওজন বৃদ্ধি সত্যিই থাইরয়েড সমস্যা-র কারণে হচ্ছে?

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত। 

  • সব সময় ক্লান্ত লাগা
  • ঠান্ডা বেশি লাগা
  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • চুল পড়া বেড়ে যাওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • মুখ ও চোখে ফোলাভাব
  • অনিয়মিত পিরিয়ড

যদি এই উপসর্গগুলোর সঙ্গে ওজন বাড়ে, তাহলে “থাইরয়েড বাড়লে কী কী সমস্যা হয়” বা “থাইরয়েডহলে কী কী সমস্যা হয়”, এই প্রশ্নগুলো প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

হাইপোথাইরয়েডিজমের উপসর্গ: শুধু ওজন বৃদ্ধি নয়

অনেকেই ভাবেন, থাইরয়েড মানেই ওজন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা অনেক বড়।

হাইপোথাইরয়েডিজম হলে, 

  • স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে
  • মনমরা ভাব বা ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে
  • হার্টবিট ধীরগতির হয়ে যেতে পারে
  • কণ্ঠস্বর ভারী হতে পারে
  • যৌন ইচ্ছা বা লিবিডো কমে যেতে পারে

শিশুদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই শুধু ওজন বৃদ্ধি নয়, শরীরের সামগ্রিক পরিবর্তনের দিকেনজর রাখা জরুরি।

থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায় কি কার্যকর?

অনেকেই ইন্টারনেটে “থাইরয়েড কমানোর ঘরোয়া উপায়” খুঁজে থাকেন। বাস্তবে হাইপোথাইরয়েডিজমহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থাইরক্সিন জাতীয় ওষুধই প্রধান সমাধান।

তবে কিছু অভ্যাস সহায়ক হতে পারে, যেমন:

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • পর্যাপ্ত ঘুম
  • আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার (পরিমিত পরিমাণে)
  • সুষম খাদ্য

কিন্তু ঘরোয়া পদ্ধতি দিয়ে একা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, এ কথা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

হঠাৎ করে ২–৩ মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওজন বৃদ্ধি হলে এবং তার সঙ্গে উপরের লক্ষণগুলো থাকলেদেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সাধারণত রক্তপরীক্ষা (TSH, T3, T4) করেই বোঝা যায় থাইরয়েড সমস্যা আছে কিনা। দ্রুত ধরাপড়লে চিকিৎসা সহজ এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

বিশেষ করে যদি,

  • পরিবারে থাইরয়েডের ইতিহাস থাকে
  • গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকে
  • প্রসবের পর হঠাৎ ওজন বাড়ে
  • দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকে

তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত।

সব ওজন বৃদ্ধি-র পেছনে থাইরয়েড দায়ি নাও হতে পারে। তবে ওজনের সঙ্গে যদি ক্লান্তি, ঠান্ডা লাগা, চুলপড়া বা ত্বকের পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। সচেতন থাকুন, প্রয়োজনে পরীক্ষা করুন, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্তই আপনাকেসামগ্রিক ভাবে সুস্থ রাখবে।

Written and Verified by:

Dr. Sujit Bhattacharya

Dr. Sujit Bhattacharya

Senior Consultant Endocrinologist Exp: 35 Yr

Endocrinology

Book an Appointment

Dr. Sujit Bhattacharya is a Senior Consultant in Endocrinology Dept. at CMRI, Kolkata, with over 33 years of experience. He specializes in diabetes management, thyroid disorders, obesity, osteoporosis, and adrenal conditions.

Related Diseases & Treatments

Endocrinology Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now