তরুণদের প্রিডায়াবেটিস: নীরব বিপদ সংকেত
Home >Blogs >তরুণদের প্রিডায়াবেটিস: নীরব বিপদ সংকেত

তরুণদের প্রিডায়াবেটিস: নীরব বিপদ সংকেত

Summary

তরুণদের মধ্যে প্রিডায়াবেটিস কেন বাড়ছে, এর নীরব লক্ষণ ও ঝুঁকিগুলি কী এবং কীভাবে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে প্রিডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করা যায়, তা জানুন।

প্রিডায়াবেটিস: জেনে নিন জরুরি বিষয়গুলি

এক সময় ডায়াবেটিসকে “বয়সকালের রোগ” বলা হতো। কিন্তু আজকের বাস্তবতা বলছে অন্য কথা।বর্তমানে স্ট্রেসফুল জীবনযাপনের কারণে ২০-৩৫ বছর বয়সী বহু তরুণ-তরুণীর শরীরে ধরা পড়ছেপ্রিডায়াবেটিস, একটি নীরব বিপদের ইঙ্গিতমূলক অবস্থা, যা সময়মতো ধরা না পড়লে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গডায়াবেটিসের রূপ নিতে পারে।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, প্রিডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণই দেখা যায় না।ফলে মানুষ বুঝতেই পারেন না, শরীর ভিতরে ভিতরে বিপদের দিকে এগোচ্ছে। আসুন জেনে

প্রিডায়াবেটিস কী এবং তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে?

প্রিডায়াবেটিস হল এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, কিন্তুডায়াবেটিস হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার মতো বেশি নয়। সহজভাবে বললে, এটি ডায়াবেটিসের “ঠিক আগেরধাপ”।

শহুরে জীবনযাপন এই সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। সারাদিন বসে কাজ করা, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, মিষ্টি পানীয় আর মানসিক চাপ, সব মিলিয়ে শরীরের ইনসুলিন হরমোন তৈরিতেব্যাঘাত ঘটছে।

এছাড়া কম বয়স থেকেই মোবাইল ও স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং দ্রুতবদলে যাওয়া খাদ্যাভ্যাস তরুণদের প্রিডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রিডায়াবেটিসের নীরব লক্ষণ ও প্রাথমিক সতর্ক সংকেত

অনেকেই ভাবেন, সমস্যা হলে নিশ্চয়ই শরীর জানান দেবে। কিন্তু প্রিডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটুআলাদা। কোনও লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে। তাই একটা বয়সের পর নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করানোঅত্যন্ত জরুরি।

তবুও কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন,

  • বারবার অকারণে ক্লান্ত লাগা
  • অতিরিক্ত তেষ্টা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া
  • হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
  • খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঝিমুনি
  • ত্বকের কিছু জায়গা কালচে হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে গলা বা বগলে।

এই লক্ষণগুলোকে আমরা প্রায়ই “সাধারণ সমস্যা” ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এগুলো প্রিডায়াবেটিসেরপ্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রিডায়াবেটিস হওয়ার প্রধান ঝুঁকিগুলো

প্রিডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে, সবাই সমান ঝুঁকিতে থাকেন না। কিছু বিষয় থাকলে প্রিডায়াবেটিস হওয়ারসম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়, 

  • পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে
  • পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ থাকলে
  • নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব হলে
  • উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল থাকলে
  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করলে
  • ধূমপান করলে
  • মদ্যপান করলে
  • দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে
  • মেয়েদের ক্ষেত্রে PCOS হলে

এগুলো ধীরে ধীরে শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করা বাড়তে থাকে।

কীভাবে প্রিডায়াবেটিস ধরা পড়ে?

প্রিডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি সাধারণ রক্তপরীক্ষা করা হয়,

  • ফাস্টিং ব্লাড সুগার (Fasting) 
  • HbA1c
  • পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল ব্লাড সুগার (PP)

এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায় শরীর গ্লুকোজ কতটা ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে। নিয়মিতচেকআপ করলে অনেক সময় আগেভাগেই বিষয়টি ধরা পড়ে যায়, যা ভবিষ্যতের বড় সমস্যা ঠেকাতেসাহায্য করে। এই প্রিডায়াবেটিস থেকে হতে পারে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, কিডনির রোগইত্যাদি। তাই সময়মতো সচেতন হওয়া জরুরি।

জীবনযাপনের পরিবর্তনে কি প্রিডায়াবেটিস থেকে মুক্তি সম্ভব?

হ্যাঁ, জীবনযাপনের পরিবরতনে প্রিডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বা প্রিডায়াবেটিস আটকানো যায়, এটাই সবচেয়ে বড় আশার কথা। প্রিডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যাকে সঠিক সময়ে ধরতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ করে নেওয়াযায়। কিছু বাস্তবসম্মত পরিবর্তনই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে, যেমন,

খাদ্যাভ্যাসে বদল

প্রিডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকায় থাকা উচিত,

  • বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার
  • শাকসবজি ও ফল
  • গোটা শস্য
  • কম তেল ও কম চিনি

রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, মিষ্টি পানীয় ও প্রসেসড খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা যোগাভ্যাস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেয়।

পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

৭–৮ ঘণ্টা ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস (যেমন মেডিটেশন) ইনসুলিনের কার্যকারিতাবাড়ায়।

এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে প্রিডায়াবেটিস থেকে মুক্তির উপায় বাস্তবেই সম্ভব।

তরুণদের কখন প্রিডায়াবেটিস স্ক্রিনিং করানো উচিত?

যদি বয়স ২৫ পেরিয়ে যায় এবং উপরোক্ত ঝুঁকিগুলোর যেকোনো একটি থাকে, তাহলে বছরে অন্ততএকবার ব্লাড সুগার পরীক্ষা করানো ভালো। এছাড়া অকারণে ক্লান্তি, ওজন পরিবর্তন বা পারিবারিকইতিহাস থাকলে দেরি না করে স্ক্রিনিং করানো জরুরি।

প্রিডায়াবেটিস কোনো হঠাৎ হওয়া রোগ নয়, এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয় আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে।ভালো খবর হলো, একটু সচেতন হলেই এই নীরব বিপদকে থামানো যায়। শরীরের ছোট সংকেতগুলোকেগুরুত্ব দিন, নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং আজ থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যান।ভয় পাবেন না, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করুন, সুস্থ থাকুন।

Written and Verified by:

Dr. Kalyan Kumar Gangopadhyay

Dr. Kalyan Kumar Gangopadhyay

Consultant - Diabetes & Endocrinology Exp: 34 Yr

Endocrinology

Book an Appointment

Dr. Kalyan Kumar Gangopadhyay is a Consultant in Diabetes & Endocrinology Dept. at CMRI Hospital, Kolkata. He specializes in diabetes management, thyroid disorders, lipid disorders, and metabolic diseases.

Related Diseases & Treatments

Endocrinology Doctors in Kolkata

NavBook Appt.WhatsappWhatsappCall Now