
কলকাতাবাসীর কাছে ডেঙ্গু খুবই পরিচিত শব্দ। তবে ডেঙ্গু জ্বরকে সাধারণত কলকাতার মানুষ বর্ষাকালীন রোগ হিসাবেই দেখে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়ট সেরকম নয়। বিগত কিছু বছরে দেখা গেছে, শীতকালেও কলকাতা এবং কলকাতা সংলগ্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুজ্বরের কবলে পড়েছেন অনেকেই।
মশা একটি ক্ষুদ্র প্রাণী, কিন্তু কিছু প্রজাতির মশার কামড় মানুষের প্রাণ সংশয় করে দেয়। যেমন, এডিস মশা। এই মশার একটি কামড়ে হয়ে যেতে পারে ডেঙ্গু জ্বর। শুধু বর্ষা নয়, শীতেও সাবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি। জেনে নিন এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, ডেঙ্গু জ্বর কি শীতকালে হয়? উত্তর হলো, হ্যাঁ। যদিও শীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম, তবুও একেবারে শূন্য নয়। এডিস প্রজাতির মশা সাধারণত উষ্ণ পরিবেশে বেশি সক্রিয় থাকে, কিন্তু কলকাতার শীত খুব একটা কড়া নয়। এর ফলে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এমন পর্যায়ে থাকে, যেখানে মশার বংশবিস্তার থেমে যায় না। মশার সংখ্যা বেড়ে চলে, সেই সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের আশঙ্কাও।
কলকাতা শহরের পরিবেশ ও জীবনযাত্রাই এর প্রধান কারণ। এখানে সারা বছরই কোথাও না কোথাও জল জমে থাকে, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ছাদের ট্যাঙ্ক, ফ্রিজের ট্রে, এসির জল পড়ার ট্রে ইত্যাদি। শীতকালে বৃষ্টির পরিমাণ কম হলেও এই জমে থাকা স্বচ্ছ জলেই এডিস মশা সহজে ডিম পাড়ে এবং বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
এছাড়া শীতে অনেক মানুষই মশারী কম ব্যবহার করে, ফলে অজান্তেই ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শীতকালেও ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে উদাসীন হলে তা হঠাৎ বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে সচেতনতা থাকলেও, শীতকালে অনেকেই উপসর্গগুলোকে সাধারণ ভাইরাল বা ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে যান। এটা একদম ঠিক নয়। ডেঙ্গুর কিছু সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হল
শীতে এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে অনেকেই প্যারাসিটামল খেয়ে নেয়, ভাবে সেরে যাবে। কিন্তু জ্বর যদি ২-৩ দিনের বেশি থাকে, তাহলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তার দেখানো ও পরীক্ষা করানো জরুরি।
ডেঙ্গু জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই বিশ্রাম নিতে হবে, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু নিজে নিজে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া একেবারেই উচিত নয়। জ্বর ২-৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
“ডেঙ্গু হলে কী খাবো” এই প্রশ্নটিও প্রচুর মানুষের মনে জাগে। ডেঙ্গু জ্বর হলে ডাবের জল, ওআরএস, ফলের রস, হালকা স্যুপ শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে সুস্থ হতেও কম সময় লাগবে।
সাধারণভাবে ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকবে, তা রোগীর শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত জ্বর ৫-৭ দিনের মধ্যে কমে যায়। তবে প্লেটলেট কমে যাওয়া, দুর্বলতা বা ক্লান্তি আরও কিছুদিন থাকতে পারে। এই সময় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা বড়দের তুলনায় একটু আলাদা হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কান্না, খাওয়া কমে যাওয়া, পেট ব্যথা বা নিস্তেজ ভাব দেখা যেতে পারে। অনেক সময় জ্বর খুব বেশি না হলেও ভেতরে ভেতরে প্লেটলেট কমে যেতে পারে। তাই শিশুদের জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
আগেও আমরা উল্লেখ করেছি যে, ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা, যা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। এই মশা পরিষ্কার জমে থাকা জলে বংশবিস্তার করে, এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর দিক। তাই “নোংরা জলে মশা হয়” এই ধারণা ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ভুল। সাবধান থাকুন, জল জমতে দেবেন না।
শীতেও ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কিছু সাধারণ অভ্যাসই যথেষ্ট:
জ্বর ২-৩ দিনের বেশি থাকলে, সঙ্গে শরীর ব্যথা, বমি বা দুর্বলতা থাকলে দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। শীতকাল বলে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু হলে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ডেঙ্গু জ্বর এখন আর শুধুমাত্র বর্ষাকালের রোগ নয়। কলকাতার মতো শহরে শীতকালেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও সময়মতো পরীক্ষা, এই তিনটিই পারে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে। শীত এলেই নিশ্চিন্ত হওয়া নয়, বরং একটু বেশি সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
জ্বর ২-৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, গা এবং চোখ ব্যথা হলে দ্রুত পরীক্ষা করান এবং ডাক্তার দেখান।
বেশি করে জল, ওআরএস খান এবং সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
বাড়িতে এখানে ওখানে জমা জল ফেলে দিন, ঘুমোনোর সময় মশারী ব্যবহার করুন।
Written and Verified by:
-Dr.-Rajarshi-Sengupta-(-General-Medicine-).webp&w=256&q=75)
Dr. Rajarshi Sengupta is a Consultant in Internal Medicine Dept. at CMRI, Kolkata, with over 23 years of experience. He specializes in the management of infectious diseases such as dengue, malaria, typhoid, and diphtheria, with a strong focus on patient care and immunizations.
Similar Internal Medicine Blogs
Book Your Appointment TODAY
© 2024 CMRI Kolkata. All Rights Reserved.